ব্রেকিং নিউজ:
আলোর প্রতীক মালালাকে গুলি করলো আফগান জঙ্গীরা
নিউজ ডেস্ক    অক্টোবর ১০, ২০১২, বুধবার,     ০৩:০১:০৬

 

পাকিস্তানের সোয়াতে মালালা ইউসুফ জাই নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে গুলি করেছে তালেবানরা। স্কুল থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয় মেয়েটি। সোয়াতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিল তালেবানরা। প্রতিবাদে ব্লগে লেখালেখি ও স্কুলে মেয়েদের সংগঠিত করার কারনেই মালালা তালেবানদের শত্রু হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
২০০৯ সাল। তখন পাক আফগান সীমান্তের সোয়াত এলাকায় তালেবান জঙ্গীদের আধিপত্য। কন্যা শিশুদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। অনেকের মতোই এই ঘটনা ব্যাথিত করেছে ১১ বছরের মালালা ইউসুফ জাইকে। কিন্তু সবার মতো চুপ করে থাকেনি মালালা। স্কুলে যেতে না পারার কষ্টকর স্মৃতিগুলো সে ধরে রাখে ডায়রির পাতায়। ‘লাইফ আন্ডার দ্য তালেবান’ শিরোনামে মালালার সেই ডায়রি ধারাবাহিক ভাবে প্রচারিত হয় বিবিসি উর্দু সার্ভিসে। সোয়াতের ছোট্ট মালালা হয়ে ওঠে বিশ্বব্যাপী নীপিড়িত কন্যা শিশুদের প্রতিনিধি। হয়ে ওঠে এ যুগের আনা ফ্রাঙ্ক।
২০০৯ সালের শেষ দিকে পাক সেনাদের বছরব্যাপী অভিযানে পতন ঘটে তালেবান জঙ্গীদের। বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় মালালা। বিসিসি আর নিউইয়র্ক টাইমসের মতো গণমাধ্যমে ছাপা হয় তার সাক্ষাৎকার। নারী শিক্ষায় অবদানের জন্যে তাকে শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত করে পাকিস্তান সরকার। সব মিলে অন্ধকার সোয়াতের এক টুকরো আলো হয়ে ওঠে মালালা।
কিন্তু মালালার মতো এমন আলো সহ্য হয়নি তালেবান জঙ্গীদের। বরাবরই তার ছোট্ট জীবনটার ওপর তালেবান হুমকী ছিলো। জঙ্গীরা বলেছিলো সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করা হবে। হুমকি মাথায় নিয়েও স্কুল বন্ধ করেনি মালালা।
মালালার বাবা জানিয়েছে, ওর কারনেই সোয়াতের মিংগোরা এলাকায় কন্যা শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়ছিলো। মঙ্গলবারও সহপাঠিদের সাথে স্কুলে গিয়েছিলো মালালা। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ঘটলো সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। মালালার ওপর গুলি চালায় তালেবান জঙ্গীরা। তার মাথায় ও কাঁধে দুটি গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কোরে পেশোয়ারের সামরিক হাসপাতালে আনা হয় মালালাকে। তার অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে গেলো মালালা। কিন্তু তার ভবিষ্যত? তালেবান অন্ধকার থেকে সত্যিই কি বেঁচে থাকতে পরবে মালালার মতো এই আলোর প্রতিনিধিরা?
আর.এস/এস.এম.বি/০২.৫০
বিভাগ: বিশ্বযোগ   দেখা হয়েছে ১৭১০ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :