ব্রেকিং নিউজ:
অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা গুরুত্ব পেল এএসইএম সম্মেলনে
নিউজ ডেস্ক    নভেম্বর ০৬, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৭:১২:৫৭

 

এশিয়া ও ইউরোপের ৫২টি দেশের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৬ দফা ঘোষণার মধ্যদিয়ে আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ এশিয়ার এই শহরে দু’দিনব্যাপী নবম এশিয়া-ইউরোপ বৈঠক (এএসইএম-৯) শেষ হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, ফোরামভুক্ত সদস্য দেশগুলো টেকসই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা দিতে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দৃঢ় আকাঙ্খা প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এশিয়ার ২০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, ইউরোপের ২৯টি দেশ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এবং আসিয়ানের মহাসচিব এ বছর অনুষ্ঠিত সম্মেলন যোগ দেন। এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিলো- ‘শান্তির জন্য বন্ধু, সমৃদ্ধির জন্য অংশীদার।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এএসইএম সম্মেলনে যোগদান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ সংস্থা বিশ্বের সর্বমোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ৬০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি বলেন, এএসইএম-এ বাংলাদেশের প্রবেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপীয় দেশেগুলোর সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আন্তঃমহাদেশীয় আলোচনা এবং এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৈরী করতে পারে।
ঘোষণায় এএসইএম নেতৃবৃন্দ এশিয়া ও ইউরোপে শান্তি, স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে উন্নত পারস্পারিক যোগযোগের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এএসইএম নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড সংস্থার নতুন সদস্য হওয়ায় স্বাগত জানান। এএসইএম পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা ক্ষেত্র তৈরী করতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে নবম এএসইএম সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও লাও পিডিআর-এর প্রধানমন্ত্রী থংসিন থামাভং, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী ইলিও ডি রুপো বক্তৃতা করেন।
শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ, লাওসের প্রেসিডেন্ট চোমালি সায়াসোন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হারম্যান ভ্যান রম্পু ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোসে ম্যানুয়েল বারোসো অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণায় আরো বলা হয়, এএসইএম নেতৃবৃন্দ এএসইএমভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পছন্দ করার এবং স্বাধীন ভাবে তাদের অর্থনেতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
নেতৃবৃন্দ দৃঢ়, টেকসই, ভারসাম্যপূর্ণ, অর্ন্তভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন, এবং প্রবৃ্দ্ধি অর্জনের প্রণোদনা যোগাতে অর্থনৈতিক খাত ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কারের ব্যাপারে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে মতৈক্যে পৌঁছায়।
নেতৃবৃন্দ তাদের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অধীনে সুষ্ঠু, স্বচ্ছতা এবং আইনভিত্তিক বহুমাত্রিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া চালু করার ব্যাপারে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামী ২০১৪ সালে এএসইএম-এর পরবর্তী সম্মেলন বেলজিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

এম. এস./ ২১.১৫
বিভাগ: অর্থযোগ   দেখা হয়েছে ৬৩৫ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :