ব্রেকিং নিউজ:
LIVE TV
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের যুগপূর্তি
খেলাযোগ ডেস্ক    নভেম্বর ১০, ২০১২, শনিবার,     ০৩:৪৬:৫৪

 

আজ ১০ই নভেম্বর। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক যুগ পূর্তির দিন। আজ থেকে ঠিক ১২ বছর আগে আজকের এই দিনে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক হয়েছিলো দুর্জয়-বুলবুলদের হাত ধরে। এই সময়ে টেস্টে বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিপরীতে প্রাপ্তি কতটুকু, হিসাবটা তাই মিলিয়ে নেয়ার সময় এসেছে।
২০০০ সালের ১০ই নভেম্বর। দশম টেস্ট দল হিসাবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। ক্রিকেটের এই বনেদি আসরে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ভারত। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অভিষেক ইনিংসে চারশো রান করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেয় টাইগাররা। অভিষেক টেস্টে বুলবলের রেকর্ড ১৪৫ রানের ইনিংস আর অভিষিক্ত অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের ৬ উইকেটের রেকর্ড, সবমিলিয়ে এক সোনালী সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেই বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ হারে। হারলেও আইসিসি, এসিসিসহ গোটা ক্রিকেট দুনিয়া জুড়েই ছিলো বাংলাদেশের প্রশংসা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রশংসার সুর বেশিদিন বাজেনি।
এরইমধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে দেশের ক্রিকেটে। যে স্টেডিয়ামে টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো সেখানে এখন ক্রিকেট খেলা হয় না।
১২ বছরে ৭৩টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছে তিনটি, ড্র হয়েছে সাতটি। বেশির ভাগ ম্যাচেই হারতে হয়েছে ইনিংসের ব্যবধানে। বেশিরভাগ ম্যাচই আড়াই কিংবা তিন দিনেই মধ্যে শেষ হয়েছে। আর সবশেষ টেস্ট জিতেছিলো ২০০৯ এর জুলাইয়ে।
এক যুগ আগে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলতে পারাকে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক দুই অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক আকরাম খান ও হাবিবুল বাশার সুমন।
অভিষেকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আকরাম বলেন, ‘টেস্ট খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে। দেশের অভিষেক টেস্ট দলের একজন সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করি। প্রথম টেস্টে খেলার অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। এটা অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।’

একই অনুভূতি হাবিবুল বাশারেরও। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭১ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০ রান করা বাশার বলেন, ‘প্রথম টেস্ট খেলার অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। অন্য কিছুর সঙ্গে এর তুলনা চলে না। আমার জন্য ব্যাপারটি আরো আলাদা, কারণ অনেক যুদ্ধ করে অভিষেক টেস্টের দলে আমাকে জায়গা করে নিতে হয়েছিল। সেই টেস্টের পরে আরো অনেক টেস্ট খেলেছি। কিন্তু দেশের অভিষেক টেস্ট খেলার সেই সুখকর অনুভূতি কখনো ভুলে যাবার নয়।’
এক যুগে যতটা এগোনোর কথা তা এগোনো যায়নি। কেনো এমন হলো তার উত্তর খোঁজে ফেরেন তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী। সাবেক বোর্ড সভাপতি বলেন, আমরা টেস্ট স্ট্যাটাসের সুযোগটা নিতে পারিনি। দীর্ঘ ১২ বছরের যতটা পরিপক্ক হওয়া উচিৎ ছিল তা আমরা অর্জন করতে পারিনি।
এতকিছুর পরেও অর্জনের পাল্লাটা নেহায়েতই কম নয় বাংলাদেশ দলের। ১০ই নভেম্বর বাংলার মাটিতে প্রথম গড়ায় টেস্ট বল। এই ম্যাচেই দৃঢ়চেতা বাঙ্গালীর মুন্সিয়ানা দেখলো সারা বিশ্ব। শুরু করলেন বুলবুল, শতক হাঁকিয়ে ১৪ কোটি হৃদয়ে স্বপ্নের জাল বুনে দিলেন। শুধু ব্যাট উঁচু করতে না, পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে অলোক কাপালি জানান দিলেন নিজেদের ক্ষমতা। ১২ বছরে বাধা এসেছে বার বার, টাইগাররা পেরিয়ে গেছে শত বাধা। হবে না, পারবে না বলে যখন মুখে তুবড়ি ছুটিয়েছে ক্রিকেটের শাসক শ্রেনী, তখনই ব্যাট আর বলে জবাব দিয়েছে বাংলার ছেলেরা। হাজারো প্রতিকূলতার বাঁধ ভেঙ্গে টাইগাররা এগিয়ে গেছে দুর্বার গতিতে। বাঘের গর্জন শুনিয়েছে সারা বিশ্বকে। ঐ বুলবুল-দুর্জয়দের দেখানো পথে এখন ক্রিকেট দুনিয়ায় মাইলের পর মাইল পাড়ি দিচ্ছেন সাকিব-তামিমরা। অভিজাত লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে বাংলাদেশের নাম লিখে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। বিদেশের মাটিতে বাংলার পতাকা উড়িয়ে এসেছেন সাকিবও। এমন হাজারো টুকরো টুকরো গল্পে বারো বছরের একটা অধ্যায় সাজিয়েছে এ দেশের ক্রিকেটেররা। কিন্তু এতো কেবল শুরু, কোটি হৃদয়ের ভালোবাসার শক্তিতে গোটা পৃথিবীকে জয় করুক বাংলার ক্রিকেট, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এফ.আর/এস.এম.বি/০৩.০০
বিভাগ: খেলাযোগ   দেখা হয়েছে ১০৯২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :