ব্রেকিং নিউজ:
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে সারাদেশে জামায়াতের হরতাল
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ০৪, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০৯:৪৮:০৪

 

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, যান-বাহনে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর চেষ্টা আর পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারাদেশে হরতাল করেছে জামায়াত-শিবির। রাজধানীতে দিনভর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যান-বাহনে ভাঙচুরের পাশাপাশি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আতংক তৈরির চেষ্টা করেছে শিবির কর্মীরা, চেষ্টা করেছে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেবারও। নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে আটক করা হয় অর্ধশত জামায়াত-শিবির কর্মীকে ।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে ও গত সোমবার পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা এ হরতালের ডাক দেয় জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এ হরতালে নৈতিক সমর্থন দেয়।
দিনের শুরুতেই খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালের সামনে পুলিশের চার সদস্যের ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে শিবির কর্মীরা। এসময় তারা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ফাঁকা গুলি করে ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে- গুলিবিদ্ধ হয়েও পালিয়ে যায় শিবির কর্মীরা।
সকাল সাতটার দিকে হরতাল সমর্থক প্রায় শ'খানেক শিবির ক্যাডারের তাণ্ডবের মুখোমুখি হন অফিসগামী বাসযাত্রীরা। পরিবাগ ওভারব্রীজ থেকে শুরু করে বাংলামোটর পর্যন্ত প্রায় আধঘণ্টা ধরে তারা অর্ধশত বাস ভাঙচুর করে ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
যাত্রাবাড়িতেও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও সড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাংচুর করে শিবির কর্মীরা। কাজলার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় শিবির কর্মীরা রাস্তায় নামলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। গোলাপবাগের শিবির কর্মীরাও পড়ে পুলিশের ধাওয়ার মুখে। এসময় যাত্রাবাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে ছয় জনকে আটক করে পুলিশ।
মানিকনগর, যাত্রাবাড়ি, লালবাগ, কারওয়ান বাজার এলাকায় জামায়াত-শিবির ঝটিকা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এখান থেকে বেশ কয়েকজন জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করা হয়।
শিবির কর্মীরা বকশী বাজারে একটি হিউম্যানহলারে ও বনানীতে নৌবাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এসব কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ছাড়া রাজধানীর অন্য সব জায়গায়, বিশেষ করে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংখ্যা বেশি এমন এলাকা যেমন পল্টন, বায়তুল মোকাররম, মগবাজার ও মালিবাগে হরতাল পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি শান্ত।
এদিকে মিরপুরের পল্লবীতে ককটেল ফুটিয়ে গাড়ি ভাঙ্গচুরের সময় স্থানীয় জনগণ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা পিকেটারদের গণধোলাই দিলে ৮ শিবির কর্মী আহত হয়। গণপিটুনিতে আহতদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদেরকে স্থানীয় একটি হাসাপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হরতালের কর্মসূচী চলাকালে বিকেল সাড়ে ৩টার সময় পল্লবীর কালশিতে মিছিল শুরু করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তারা হরতালের স্লোগান দিয়ে অন্তত ৪০ টি গাড়ি ভাঙচুর করে ও আগুন লাগানোর চেষ্টা করে ।
এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে শিবির কর্মীরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় অন্তত ৮ জনকে ধরে গণপিটুনি দেয় সাধারন মানুষ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরা। পরে পুলিশ আহত শিবিরকর্মীদের থানায় নিয়ে যায়।
মিরপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো: জসিম উদ্দিন জানান, শিবিরের যে কোন রকম নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক আছে তারা।
এদিকে, জামায়াতের ডাকা হরতালে সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলো অন্য দিনের তুলনায় ফাঁকা ছিল। রাস্তায় যানবাহন কম থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ। ঝুকি আর আতকঙ্ক নিয়েই মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। এদিকে ব্যাংক, অফিস আদালত, দোকান পাট খোলা থাকলেও সবই চলেছে ঢিলেঢালা ভাবে।
তবে নাশকতা এড়াতে রাজধানী জুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশ ও র‍্যাবের মোতায়েন ছিল চোখে পড়ার মতো। এরমধ্যেই দিনভর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আর বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে আতংক তৈরির চেষ্টা করেছে শিবির কর্মীরা।
এদিন রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোতে বাস ছেড়েছে কম।
লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী ছিলো কম। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঠিক সময়েই সব লঞ্চ ছেড়ে গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে লঞ্চ আসতেও কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।
এদিকে রাজধানীর কাঁচাবাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, পরিবহণ সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বেশি রাখছে এমন অভিযোগ ছিল ক্রেতাদের।


প্রতিবেদন: পারভেজ রেজা , আতাউর কাওসার রিয়াজ সেজান
সম্পাদনা: মাহবুব সাঈফ
বিভাগ: সংবাদ সংযোগ   দেখা হয়েছে ৫৫৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :