ব্রেকিং নিউজ:
LIVE TV
অপেক্ষার প্রহর কাটে বিচারের আশায়...
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ১৪, ২০১২, শুক্রবার,     ০৩:২৩:৩১

 

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এই দিনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। পুরো জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বুদ্ধিজীবী শহীদদের।
সেদিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালি। তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে গোটা দেশের মানুষ।
১৯৭১ সালে যখন বাংলার মুক্তিপাগল বীর সেনাদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি হায়েনারা, যখন নিশ্চিত পরাজয়ের হাতছানি পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসরদের সামনে তখনই বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের দিকে নজর পড়ে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দালাল রাজারকার, আলবদর ও আল শামসদের। তারা বাংলাকে মেরুদন্ডহীন করতে মেতে উঠে বুদ্ধিজীবীদের খুনের নৃশংস খেলায়।
পরে শরীরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের চিহ্নসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজার এলাকায়। পরে এই এলঅকাগুলো বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
বুদ্ধিজীবী হত্যার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও বিচার পাননি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজনেরা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় দিন কাটে তাঁদের।
বুদ্ধিজীবী ড. আজহারুল হকের স্ত্রী সৈয়দা সালমা হক। বিয়ের বয়স তখনো দুই বছর হয়নি। ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা সালমা হকের চোখের সামনে থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ড. আজহারুলকে। সেদিনের সেই কথা সালমা হক আজো ভুলতে পারেননি। স্বামী হারানোর বেদনা আর হত্যার বিচার আজো তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। এমন সালমা হকের সংখ্যা নেহায়েতই কম নয়। সেসময় অনেকেই হারিয়েছেন সন্তান, কেউ স্বামী, কেউ বাবা। আবার কেউ হারিয়েছেন স্নেহময়ী মা’কে।
সে সময়ের মিটফোর্ড হাসপাতালে কর্মরত ডা. আব্দুল আলীম চৌধুরীকে তাঁর পল্টনের বাসা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায় ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে। এরপর ১৭ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইণ্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ডা. এম এ হাসানের জানান, ৭১ এর ডিসেম্বরে বিজয়ের শেষ সময়ে বেশির ভাগ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয় রায়েরবাজার বধ্যভূমি আর মিরপুরের ২৩ টি স্থানে। তার মধ্যে ৪৮টিই ছিলো তখনকার ঢাকা পৌরসভার অন্তর্গত। মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল সেন্টার ছিল তখন পেশাজীবী নির্যাতনের কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।
প্রত্যক্ষদর্শী মিয়ালেতি গাঙ্গুয়া
(হরিজন) জানায়, রায়েরবাজার বধ্যভূমির মতো ঢাকায় তখন পাকবাহিনী আর তাদের দোসররা হত্যাযজ্ঞের জন্য বেছে নেয় ৭০টি স্থান। নয় মাসে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ঢাকায় প্রতিদিন হত্যা করা হয়েছে হাজার নারী-পুরুষকে। সেই মরদেহই গরুর গাড়িতে করে সায়েদাবাদে ফেলেছেন মিয়ালেতি।
রক্তের যে ধারা মিশে গেছে বুড়িগঙ্গায়, যে রক্তে সিক্ত মাটি আজও অন্ন যোগায় কোটি মানুষের মুখে, যে বীরাঙ্গনা আজও অতৃপ্ত বিচারহীনতায়-সবার কাছে অন্তত: এতটুকু সান্ত্বনা পাবার আশা যে ৪১ বছর পর হলেও ঘাতকদের বিচার হচ্ছে। তাই রায়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো স্বজনহারা মানুষ।

পি.এস/এ.বি/এস.এম.বি/০১.৩০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬০৫ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :