ব্রেকিং নিউজ:
মুক্তিযুদ্ধ-নতুন প্রজন্মের সেতুবন্ধন ‘একাত্তরের চিঠি’র সূচনা প্রদর্শনী
নিউজ ডেস্ক    ডিসেম্বর ১৮, ২০১২, মঙ্গলবার,     ০২:৪০:১২

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রণাঙ্গন থেকে স্বজনদের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা চিঠির বাছাই সংকলন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একাত্তরের চিঠি’র সূচনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে।
রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন-সংগ্রামের আলেখ্যকে নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেবার মধ্য দিয়ে এই প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঞ্চারণ ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এই প্রামাণ্য ধারাবাহিক।
মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ও পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যে চিঠি লিখেছিলেন, সেগুলোর মধ্য থেকে বাছাইকরা ২৬টি চিঠি নিয়ে ২০-২২ মিনিটের আলাদা গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৬ পর্বের এই প্রামাণ্য ধারাবাহিক।
প্রামাণ্য কাহিনীচিত্র ‘একাত্তরের চিঠি’-র উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ইনাম আহমেদ চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক ।
সূচনা প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদার লেখা একটা চিঠির ওপর নির্মিত দুটি পর্ব এক সঙ্গে দেখানো হয়। চিঠিটি তিনি রণাঙ্গন থেকে স্ত্রী নীলুফার দিল আফরোজ বানুকে লিখেছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ে সহযোদ্ধা শহীদ কমরেড আজাদকে লেখা নিজের লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
অনুষ্ঠানে এসে বিশিষ্টজনরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই প্রামাণ্য কাহিনী নতুন প্রজন্মকে সেসময়ের ঘটনা জানতে সাহায্য করবে। ইতিহাস বিকৃতি রোধ করতে এই প্রামাণ্য ধারাবাহিক বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তারা।
প্রামাণ্যকাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ‘সেতুবন্ধন’ হিসাবে আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রাখার প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা দেবে।”
প্রদর্শনী শুরুর আগে সূচনা বক্তব্যে একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, “এই চিঠিগুলো মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম অনুভূতি। জীবনঘনিষ্ঠ এই ডকুমেন্টরি মুত্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে নয়টি পর্ব নির্মিত হয়েছে।”
একাত্তর টেলিভিশনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী সামিয়া জামান এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের এই প্রজেক্টের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সারাদেশের মানুষের কাছে একাত্তরের চিঠি, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের কথা তাদের আত্মীয় পরিবার তাদের মনের অনুভূতির কথা পৌছে দেয়ার যে চেষ্টা, তাতে সামিল হওয়া।”
১৯৭১-এর মুক্তির সংগ্রাম যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ সমরের বীরত্বগাথার গল্প, তেমনি সেসময়কার তরুণ প্রজন্মের জীবন বোধেরও প্রামাণ্য দলিল-যে জীবনবোধের অনেকটাই এখনকার তরুণ প্রজন্মের অজানা।
দেশকে মুক্ত করার লড়াইয়ে একাত্তরের জনযুদ্ধে অংশ নেয়া বীর যোদ্ধাদের পেছনে ফেলে আসা পরিবারের অসংখ্য ব্যক্তিগত ঘটনা, অনুভব, ত্যাগ ও স্বপ্নের কাব্য স্বজনদের কাছে লেখা মুক্তিযোদ্ধাদের এসব চিঠি।
জীবন-প্রাণ-ভালবাসা সবকিছুর বিনিময়ে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জনের – এই ইতিহাসের গৌরবের অহঙ্কার এবং সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের গুরুত্ব এখন তরুণ প্রজন্ম অনেকেই অনুভব করতে পারে না। তরুণ প্রজন্মের কাছে একাত্তরের বিজয়-গৌরবের সেই অহঙ্কারকে সঞ্চারিত করার লক্ষ্যে একাত্তর টেলিভিশন বাংলাদেশে এই প্রথম এমন প্রামাণ্য কাহিনীচিত্র নির্মাণ ও প্রচার করছে।
নির্বাচিত চিঠিগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম কর্তৃক সহযোদ্ধা কমরেডকে লেখা চিঠি, মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কাছে কদবানু আলেয়ার লেখা চিঠি, অনুকে লেখা নয়নের চিঠি, পাশা মামাকে লেখা রুমির চিঠি, লুৎফা তাহেরকে লেখা আনোয়ার হোসেনের চিঠি, মেয়ের কাছে আতাউর রহমান খানের লেখা চিঠি, বাবাকে লেখা ফারুকের চিঠি, স্ত্রীর কাছে লেখা খন্দকার নাজমুল হুদার চিঠি ইত্যাদি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের এই চিঠিগুলোতে পাওয়া যায় একটি দেশের জন্মাবার গল্প। এ গল্পগুলো দেশের ক্রান্তিকালে কৃষক-শ্রমিক-স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী, প্রৌঢ়-বৃদ্ধা সব মানুষের জীবনের গভীর অনুভবের গল্প। এই গল্পগুলো হয়তো শুধুই ভালবাসার, দেশপ্রেমের, বেদনাময় আবার একই সাথে ভীষণভাবে উজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধে আত্নদানের মহিমায়।
একাত্তরের চিঠি’র চিত্রনাট্য লিখেছেন আমিনুল আকরাম, মাহাবুব আলম পল্লব, বিজয় মজুমদার ও বরকতউল্লাহ মারুফ। পরিচালনা করেছেন আমিনুল আকরাম।
পরিচালক আমিনুল আকরাম বলেন, “চিঠির ওপর ভিত্তি করে এই ফিকশন নির্মিত হলেও এতে কোনো রঙ চড়ানো হয়নি। বরং বাস্তব ধরেই রণাঙ্গনে এক-একজন যোদ্ধার অতীতের আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের সূত্রধর হচ্ছে এই ফিকশন।”
এই প্রামাণ্যচিত্রের আউটরিচ পার্টনার হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, স্ক্রিনিং পার্টনার স্টার সিনেপ্লেক্স, ইন্টারনেট নিউজ পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, রেডিও পার্টনার রেডিও টুডে ও লেবেল পার্টনার লেজার ভিশন।
একাত্তর টেলিভিশনে প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সপ্তাহের বুধবার প্রামাণ্যচিত্রগুলো প্রচার করা হবে।

এম. এস./২০.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ১০৫১ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :