ব্রেকিং নিউজ:
LIVE TV
সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রংপুর
এস.এম.বাবু    ডিসেম্বর ১৯, ২০১২, বুধবার,     ১২:৪১:৪৫

 

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা। প্রচারণায় সময় ভোটারদের কাছে শেষবারের মত নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। সেইসাথে প্রচারণার শেষ দিনেও প্রার্থীদের একে অন্যের বিরুদ্ধে ছিল নানা অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচন। শেষবারের মত ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ছুটেছেন বাড়ি থেকে বাড়িতে। প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হওয়ায় এখন ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী।
রাত পোহালেই রসিক নির্বাচন। তাই পুরো রংপুর শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রংপুর। চলতি বছরে রংপুরকে পৌরসভা থেকে সিটি র্কপোরেশন ঘোষনা করার পর থেকেই সাধারন মানুষ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে কে হবে রংপুরের গর্বিত নগর পিতা।
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নেয়া ১২ প্রার্থীর মধ্যে মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাবেক এমপি শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এবং জাতীয় পার্টির অপর সাবেক নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিকের মধ্যে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
রংপুর জেলা পুলিশ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্হা নেয়া হয়েছে পুরো নির্বাচনী এলাকায়। নির্বাচনের মাঠে দুই প্লাটুন পুলিশ থাকবে। এছাড়াও অতিরক্তি দুই প্লাটুন পুলিশ রিজার্ভ থাকবে। রংপুরের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে সাতজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২৪ জন পুলিশ ও ১২জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পুরো নির্বাচনী এলাকায় ছয়জন জুডিশিয়াল ও ৪৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এর মধ্যে ৩৩ জন ভোটকেন্দ্রে ও ১২ জন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি অভিযান চলবে। নির্বাচনে ১০টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল দেবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০৩ বর্গ কিলোমিটারের নির্বাচনী এলাকার ৩৩টি ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা মোট ১৭৮টি। এর মধ্যে ১০৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও ৫০টি কেন্দ্রে ওয়েব ক্যামেরা লাগিয়ে ভোট পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্হা গ্রহণ করবে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাকব ও বিজিবি পৃথকভাবে টহল দেবে।
ইতোমধ্যে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাচনকর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে কমিশন।
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখা ও আইন-শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বেবী ট্যাক্সি/ অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, ট্যাক্সি ক্যাব, পিক-আপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পোসহ সকল যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। রাস্তাঘাটে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মিডিয়া ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি চলবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ৪টি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষামূলকভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে।
গত ৫ নভেম্বর রসিকের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ২৯ নভেম্বর। দেশের নবগঠিত দশম এ সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ১২৮ পুরুষ এবং এক লাখ ৭৮ হাজার ৬১৪ মহিলা ভোটার বলে জানা গেছে।

এস.এম.বি/১২.৩০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৫৭৭ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :