ব্রেকিং নিউজ:
মন্ত্রিসভায় নিরাপদ খাদ্য এবং বিকল্প শিশুখাদ্য আইন অনুমোদন
    জুলাই ০১, ২০১৩, সোমবার,     ০৭:১৪:৫৭

 

খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’-এর খসড়ায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, ১৯৬৯ সালের ‘পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স’ রহিত করে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এ আইনের আওতায় ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠান’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হবে, যা খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নিম্নমানের পণ্য বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেবে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দিতে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন খাদ্যমন্ত্রী।
এই আইনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ সমন্বয় করে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে । এর আওতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ফৌজদারি আদালতে বিভিন্ন অপরাধের বিচার করা হবে, যার মধ্যে বিভিন্ন ধারায় দুই বছর থেকে সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই আইনে। এ ছাড়া পাঁচ থেকে ২০ লাখ টাকা জরিমানারও বিধান থাকছে।
এই আইনে খাদ্য নিয়ে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিলে দুই বছর, নিবন্ধন ছাড়া খাদ্যপণ্য বিপণন করলে দুই বছর এবং ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কাউকে দিয়ে খাদ্য বিক্রি করলে তিন বছর কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও তার ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি) আইন, ২০১৩’ শীর্ষক ওই আইনে নিবন্ধন ছাড়া শিশুখাদ্য প্রক্রিয়াজাত করা যাবে না। এ ছাড়া প্যাকেটজাত বা কৌটাজাত শিশুখাদ্য আমদানি, বিতরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রির চেষ্টা বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা যাবে না বলেও আইনে বিধান রাখা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বিকল্প শিশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত যেকোনো ধরনের কৌটাজাত বা প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধ, কৃত্রিম শিশুখাদ্য ব্যবহারের সরঞ্জামের জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রদর্শনী, বিতরণ, প্রচার বা প্রকাশ করলে শাস্তি হবে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে ।
স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, এ আইনের ফলে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে আগ্রহ বাড়বে এবং মায়ের দুধের যে কোনো বিকল্প হয় না, সে বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়বে। তিনি আরও জানান, আইনটিতে আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রায় বেশির ভাগ ধারাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জরুরি ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায়ও কেউ বিকল্প শিশুখাদ্য বিতরণ করতে পারবে না।

এম. এস/১৭.৩০
বিভাগ: সংবাদ সংযোগ   দেখা হয়েছে ৫৬২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :