ব্রেকিং নিউজ:
LIVE TV
কোলাবোরেটিভ জার্নালিজম, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা/ মা. সাঈফ    জুন ২৩, ২০১২, শনিবার,     ০৭:১৪:৪৩

 

পাঁচ বছর আগেও এমনটা কেউ ভাবেনি। এখন সামাজিক গণমাধ্যম সাংবাদিকতার ধরন বদলে দিয়েছে। পশ্চিমারা একে বলছে কোলাবোরেটিভ জার্নালিজম বা সহযোগিতার সাংবাদিকতা। প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা... বিষয়টা এমন নয়। প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে একে আলিঙ্গন করেছে। ফেসবুক আসে ২০০৪- এ,আর টুইটার ২০০৬-এ। প্রথম কটা বছর ছিলো শুধুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আজ যার ইন্টারনেটে যাওয়ার সুযোগ আছে তিনি এই দুইয়ের একটিতে থাকতে চাইছেন। তাই বড় বড় তো বটেই,এমনকি খুব সাধারণ মানের সংবাদ মাধ্যমও চায় এই সামাজিক মাধ্যমে নিজে থাকতে,বা তাকে ব্যবহার করতে।
সাংবাদিকরাও এখন এই সামাজিক মাধ্যমের বহুল ব্যবহারকারী। শুরুটা ছিল এমন যে নিজের কোনো ভাবনা এই মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া আর তার প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা। আর এখন তা হয়ে উঠেছে সহযোগিতা সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত।
সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠছে তথ্য অনুসন্ধানের বড় ক্ষেত্র। আমাদের এখানে বিষয়টি যদিও কোনো মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের কাজে বেশি ব্যবহার হচ্ছে, পশ্চিমা দুনিয়ায় কিন্তু তা একটু অন্যরকম। অনেক বড় বড় পত্রিকা একে কাজে লাগাচ্ছে তথ্য অনুসন্ধানে বা কোনো খবরের পক্ষে অভিমত তৈরিতে।
ফেসবুক বা টুইটারের বন্ধুরা হয়ে উঠছে কনটেন্ট কিউরেটর , সূচি বা বিষয়বস্তু বিচারক ও বিশ্লেষক। অনেক ফেসবুক বা টুইটারের বন্ধু পালন করছে সম্পাদকের ভূমিকা। ফেসবুক বা টুইটার শেয়ারিং তো সাদামাটা ব্যাপার এখন। পশ্চিমা দুনিয়ায় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, মন্তব্য আহবান করা কিংবা নিজের ওয়েব ভারসনের কোনো খবরের লিংক সামাজিক মাধ্যমের সাইটগুলোতে আপলোড খুবই স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের এখানেও তার বিস্তার ঘটছে ব্যাপকহারে।
হয়তো সম্পাদকীয় বিচার-বিশ্লেষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু ফেসবুক আর টুইটারের প্রতিক্রিয়া যেকোনো তথ্যের নতুন দিক উন্মোচন করে তাতে সন্দেহ নেই। পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বা সামাজিক মাধ্যমের তথ্যের জন্য হয়তো নতুন ধরনের সম্পাদকীয় নীতিমালা ভাবতে হবে।
সংবাদ প্রচার আর ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার খুব সাধারণ ব্যাপার এখন। প্রশ্ন হলো আসছে দিনগুলোতে কি হতে পারে? যেহেতু সাংবাদিকতা এখন অনেক বেশি সহযোগিতার মাধ্যমে হচ্ছে তাহলে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ধরনটা কেমন হতে পারে?
অনুসন্ধানী প্রতিবদেকরা তাদের রিপোর্ট সমৃদ্ধ করতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। যে বিষয়ে অনুসন্ধান করছে সে বিষয়ে সে তার বন্ধুদের সাহায্য চাইতে পারে। সামাজিক সাইটে এমন অনেক বন্ধু আছে যাদের সঙ্গে খুব কমই দেখা হওযার সুযোগ আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ মানেই এই ভার্চুয়াল জগতে দেখা-সাক্ষাত। তাই সেসব বন্ধুর অনেকেই হয়ে উঠতে পারে অনেক সংবাদের সূত্র।
এসব মানুষের অনেকেরই বিশ্লেষণী ক্ষমতা অনেক সমৃদ্ধ। অনেকের কাছেই আছে অনেক চমকপ্রদ তথ্য। আর নানা মততো আছেই যা রিপোর্টারের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে আরো পরিপূর্ণ করে। ফেসবুকে বা টুইটারে ছোট্ট এক মন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বড় ক্লু। এ এক নতুন ধরনের সাংবাদিকতা যা সত্য তুলে ধরতে অবদান রাখছে। পত্রিকা বা টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণে যে অংশগ্রহণ ক্রমেই হয়ে উঠছে সংলাপের মঞ্চ।
তবে ভাবনাও আছে। এখানে যারা স্ট্যাটাস দেন বা টুইট করেন তাদের সব তথ্য কিন্তু সত্য নাও হতে পারে। সব ব্যাখ্যা সততার সঙ্গে নাও হতে পারে। নিজের জ্ঞান আর বিবেক ব্যবহার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাংবাদিককে।

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা: বার্তা পরিচালক,একাত্তর টেলিভিশন ইমেইল: ishtiaquereza@gmail.com

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য বাংলাদেশ অবজারভার’ দিয়ে। দেশের প্রথম বেসরকারি টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল ‘একুশে’-এ বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হয়ে উঠেন বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় নতুন যুগের সূচনার অন্যতম কুশীলব। এরপর তাঁর সম্পাদনা শৈলীর যাদুস্পর্শ পায় এটিএন বাংলা, আরটিভি ও আইনী লড়াই-এ লাইসেন্স ফিরে পাওয়া স্যাটেলাইট একুশে টিভি। বার্তা প্রধান হিসেবে কাজ করেন বৈশাখী টিভি ও চ্যানেল নাইনে। ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে তিনি বার্তা পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চব্বিশ ঘণ্টার সংবাদ-সংযুক্তি মাধ্যম ‘একাত্তর’ -এর চৌকস সংবাদ-কর্মী দলের।
বিভাগ: শীর্ষ সংবাদ.   দেখা হয়েছে ১৪২৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :