ব্রেকিং নিউজ:
LIVE TV
রাজনৈতিক ইস্যু দলগুলো কিভাবে দেখছে? দলীয় নাকি জাতীয় অবস্থান থেকে?
    জুলাই ০৪, ২০১২, বুধবার,     ০৮:৪৫:১৭

 

একাত্তর মঞ্চে আমরা প্রতিদিন রাজনীতি-অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলি। আজ আমরা কথা বলতে চাই সমকালীন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নিয়ে। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়: রাজনৈতিক ইস্যু দলগুলো কিভাবে দেখছে? দলীয় নাকি জাতীয় অবস্থান থেকে?
সামিয়া জামানের সঞ্চালনায় আজকের পর্বে অতিথি হিসেবে এসেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুচিন্তা ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ এ আরাফাত। আর আমাদের কারওয়ান বাজারের নিউজ সেন্টার থেকে যোগ দিচ্ছেন গড়বো বাংলাদেশ-এর মুখপাত্র কামরুল হাসান নাসিম।
আর মাত্র এক-দেড় বছর পরেই নির্বাচন। অথচ সরকার ও বিরোধী দল নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ বলছেন, এমন অনড় অবস্থান বজায় থাকলে দেশে তৃতীয় শক্তির উত্থান হতে পারে, গণতন্ত্র বিপণ্ন হতে পারে। এ অবস্থায় সংকট এড়িয়ে সমঝোতার পথে যাওয়ার উপায় কি? দলীয়, নির্দলীয় নাকি সর্বদলীয় সরকারের অধীনে হবে আগামী নির্বাচন?
আপনারা যারা রাজনীতিবিদ, জনগণ দেশ পরিচালনার জন্য জনগণ আপনাদেরকে আস্থায় রেখে নির্বাচিত করেন, ক্ষমতায় পাঠায়। অথচ সেই আপনারাই রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য পরস্পরকে আস্থায় নিতে পারেন না। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার রাজনৈতিক বৈধতা দেয়ার জন্য অনির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তত্ত্বাবধায়কের ওপর নির্ভর করতে হয়।
একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আপনারা কতোটা যৌক্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করেন?
মহাজোটের শরিক এক নেতা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য সংবিধান সংশোধন করার কথা বলছেন। আপনার কি মনে হয়, সরকার শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের পথেই যাবে?
দুই প্রধান রাজনৈতিক দল এখন মোটামুটি প্রতিটি প্রশ্নেই দ্বিমত প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার নিয়েও তারা পরস্পর বিরোধী অবস্থানে। এই অবস্থায় দেশের নাগরিক সমাজ, পেশাজীবীরা দুই দলের মধ্যে সংলাপের কথা বলছেন। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন। সেই কাজটাতে রাজনৈতিক দলগুলো মনোযোগী নয় কেন? কিংবা যারা নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী তারাও সেই ইস্যুটিতে জোর দিচ্ছেন না কেন?
সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহারের ফলে বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এমনকি বিরোধী দলীয় নেত্রী দুর্নীতির দায়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, বিএনপি-র বিরুদ্ধেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সে সময় টিআবি রিপোর্টে বাংলাদেশ শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বলে চিহ্নিত হয়েছিল, তৎকালীন বিরোধী দল সরকারকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। প্রধান দুই দলের এই দুর্নীতির চক্র থেকে দেশের মানুষ কিভাবে মুক্তি পাবে?
সম্পূরক প্রশ্ন:
২০০৪ সালে ‘আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা অধ্যাদেশ-২০০৪’ নামে বিশ্বব্যাংককে দায়মুক্তির একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। এর আগে ১৯৭৩ সালে এডিবি এবং আইএমএফকে দায়মুক্তি দেয়া হয়। সম্প্রতি কুইক রেন্টালের জন্যও দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না-ই হয়ে থাকে, তাহলে তাকে দায়মুক্তি দেয়ার প্রয়োজন পড়েছিল কেন?
এখন অনেক আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেই বিশ্বব্যাংককে দুর্নীতির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। দেশের প্রধান দলগুলো এমনকি আপনারাও বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের সাথে সরকারের চুক্তি বা শর্ত নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেন না। এটা কি এক অর্থে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া নয়?
দর্শক, আপনারা অংশ নিতে পারেন এই আলোচনায়। ফোন করতে পারেন পর্দায় দেখানো নম্বরগুলোতে, তাছাড়া ফেসবুক, টুইটার, ইমেইল এবং স্কাইপ-এর মাধ্যমে আপনারা এই আলোচনায় যোগ দিতে পারেন।

এম./এস./ ২০.৩৫
বিভাগ: একাত্তর মঞ্চ    দেখা হয়েছে ৪৩৬৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :