ইরানে অবরোধ যখন আশীর্বাদ

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞায় নাকাল ইরানের শিল্পখাত। চলতি বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ায় আরো বিপাকে ইরানের বিদেশমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ৩৯ বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়ে এ বছর ইরানের প্রবৃদ্ধি কমেছে ছয় শতাংশ। তাই বলে থেমে নেই ইরানের উদ্যোক্তারা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটাতে উৎপাদনে দেশি উপকরণ বেছে নিচ্ছেন তারা। আর এতেই হীতে বিপরীত। অবরোধই টেনে তুলছে, ইরানের অনেক বড়ো ছোটো শিল্পখাতকে..ক্রেতারাও আস্থা রাখছেন দেশি পণ্যে। রাজতন্ত্র হটিয়ে ১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের উত্থানের পর থেকেই মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
ইরানের টুটি চেপে ধরতে সেই থেকেই একের পর, এক অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ দ্বান্দ্বিক পথচলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানতে, ২০১৫ সালে ছয়জাতি পরমাণু চুক্তি করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন। খানিকটা শিথিল হলেও অবরোধ ওঠেনি। সবশেষ পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকেও এনেছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর ইরানের প্রবৃদ্ধি কমেছে ছয় শতাংশ। ১৯৮০ সাল থেকে এ পর্যন্ত, এটাই ইরানের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি পতন। দীর্ঘ অবরোধে নাকাল ইরানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাই হেঁটেছে বিকল্প পথে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রসারিত হচ্ছে ইরানের কাপড়, চামড়া ও পারফিউমের মতো অনেক ছোটোবড়ো শিল্পখাত। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আসনে বসার পর থেকেই আরো বেশি স্বদেশমুখি হয়েছে ইরানের শিল্পখাত।

শিল্প এভাবে আগাতে থাকলে দেশি চাহিদা মিটিয়ে ইরানি পণ্য একদিন বিশ্ব বাজার মাতাবে বলেও মনে করেন অনেকে।

Leave a comment