দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্ট!

দেশের পাস্তুরিত-অপাস্তুরিত, প্যাকেটজাত ও খোলা দুধে বিভিন্ন ধরণের অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পেয়েছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক গবেষণায়, অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি মিলেছে ফরমালিন ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি। তবে, দুই গবেষণায় এসব মিললেও বিএসটিআই বলছে, বেশিরভাগ দুধই মানসম্মত।

বছরের শুরুতেই গরুর দুধের মান নিয়ে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, কিটনাশক ও সিসার উপস্থিতি আছে। তুলে ধরা হয় মানবদেহে এর ক্ষতিকর প্রভাবও। তবে আইনী বাধ্যবাধকতা থাকায় ৯৬টি নমুনার মধ্যে কোন কোন কোম্পানির দুধ ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ল্যাবের পরিচালক ড. শাহনীলা ফেরদৌসী এ প্রসঙ্গে একাত্তর টিভিকে বলেন, কেমিক্যাল বা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল যেকোনো মানদণ্ডে অকৃতকার্য হওয়া মানেই তা অকৃতকার্য। পাস্তরিত দুধ বলে বিক্রি করা পণ্য যদি মাইক্রোবায়োলজিক্যাল মানদণ্ডে উন্নীত না হয় তাহলে তা আসলে পাস্তরিত দুধ নয় বলে জানান তিনি।

প্রায় ৬ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদ দেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পাস্তরিত দুধের সাতটি এবং অপাস্তরিত বা খোলা দুধের তিনটি নমুনা উপর পরীক্ষা চালায়। ফলাফলে দেখা যায়, টিউবারকুলোসিস, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগে ব্যাবহার করা ‘লেভোফ্লক্সাসিন’ ও ‘সিপ্রোফ্লক্সাসিন’এর উপস্থিতি আছে। আর ছয়টি নমুনায় ফুসফুস, ত্বক, কান ও যৌনঘটিত রোগের সংক্রমনের জন্য ব্যবহৃত ‘এজিথ্রোমাইসিন’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে এই পরীক্ষায় দুধের নমুনাগুলো কেমিক্যাল অনুষঙ্গ ছাড়াও মানের ক্ষেত্রে ফ্যাট ইন মিল্ক মাত্রায়ও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

দুধে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ডিটারজেন্ট পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বায়োম্যাডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আ ব ম ফারুক। এর জন্য দুধ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং এগুলোর মান নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থাকে দায়ী করেন তিনি।

যদিও বিএসটিআই বলছে, বাজারে থাকা ১৪ ব্র্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কিছু পাওয়া যায়নি। ছমাসের ব্যবধানে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দুই রকম কেন? এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বিএসটিআই জানায়, অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিকেলের উপস্থিতি আছে কি না তা বিএসটিআই-এর মানের পরীক্ষায় এখনো অন্তর্ভূক্ত হয়নি।

কৃষক পর্যায় থেকে কোম্পানি পর্যন্ত তদারকি এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থাগুলো একসাথে কাজ না করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান

Leave a comment