এক ছবিতে থমকে গেলো বিশ্ব !

আবারও ছবিতে থমকে গেল সংবাদ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্ব বিবেকের ওপর আরো একটি কলঙ্কের দাগ টেনে দিল টেক্সাস সীমান্তে বাবা আর মেয়ের মৃতদেহ। উন্নত জীবনের আশায় মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতছানিতে নদীতেই ঝরে গেলো দুটি প্রাণ। তবু কাঁটা তার কিংবা উঁচু দেয়াল কিছুতেই বাঁধ মানছে না মানুষের স্রোত।

২০১৫ সালে এজিয়ান সাগরে সিরিয়ার শিশু আইলান কুর্দির মতো যুক্তরাষ্ট্র আর মেক্সিকোর সীমান্তে রিও গ্র্যান্ড নদীর তীরে এই মৃত্যু আবারও স্তব্ধ করে দেয়া শোকের।

আবারও স্বপ্নের মৃত্যু, ভালো বাঁচতে চেয়ে আবারও সীমান্তেই হলো জীবনের জলাঞ্জলি। একসাথে সেঁটে থেকেও রক্ষা হয়নি বাবা কিংবা মেয়ে কারোরই।

নতুন করে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন এল সালভাদারের নাগরিক অস্কার আলবার্টো মার্টিনেজ রামিরেজ। ২৩ মাসের সন্তান অ্যানজি ভ্যালেরিয়া আর স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

সট: পেড্রো অস্টুডিলো, সিভিল প্রোটেকশন, মাটামোরোস, মেক্সিকো

(নদী পার হয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে চেয়েছিল। বাবা মেয়েটিকে নিয়ে নদী পার হতে শুরু করে। কিন্তু তীব্র স্রোতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পাড়ে পৌঁছানোর আগেই তারা ডুবে যায়।)

এল সালভাদরের ছোট এই পরিবারটি হিউম্যানিটারিয়ান ভিসায় দুমাস ধরে ছিলেন মেক্সিকোয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চাইতে ব্যর্থ হওয়ায় মরিয়া সিদ্ধান্ত ছিল রিও গ্র্যান্ড নদী সাঁতরে যাবেন টেক্সাস।

শিশু ভ্যালেরিয়ার খেলার পুতুল, আর ছোট ছোট স্মৃতির অতল থেকে ডুকরে উঠে ছেলে আলবার্টোর কথায় ফিরছিলেন মা।

সট: রোজা রামিরেজ, অস্কার আলবার্টো মার্টিনজের মা
(আমার ছেলের সবশেষ মেসেজ পাই শনিবার। সে বলেছিলো, মা আমি তোমাকে ভালোবাসি। নিজের যত্ন নিও। এখানে আমরা ভালো আছি। মেসেজ পড়ার সময় আমি বুঝতে পারিনি এটাই শেষ বার্তা।)

আলবার্টোর মতো প্রতিদিনিই এমন পথ ধরছে হাজারো মানুষ। তাদের অনেকের পথেই ঝরছে প্রাণ, কেউবা হচ্ছেন গ্রেপ্তার।

সট: ইলোরা মুখার্জি, ইমিগ্র্যান্টস রাইট ক্লিনিক ডিরেক্টর
(আটক কেন্দ্রে শিশুরা ক্ষুধার্ত, নোংরা, অসুস্থ, আতঙ্কিত এবং বেশিরভাগই ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় সেখানে বন্দি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়া উচিৎ নয়।)

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষীরা বলছেন, গেল এক বছরে মেক্সিকো সীমান্তে ঝরেছে ২৮৩ জনের প্রাণ।

Leave a comment