দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যাংক খাত

খেলাপি ঋণে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত। সংসদে দেয়া অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী,বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের অর্থনীতিতে এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের প্রভাব কী আর এই টাকা উদ্ধার কতোটাই বা সম্ভব?

ব্যাংক খাতে দূরারোগ্য ব্যাধি খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে কেবল তিনমাসে কু ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চের শেষে তা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরেও আদালতের আদেশে আটকে আছে ৮০ হাজার কোটি টাকা ও অবলোপন করা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে গেলো ২০ বছরে ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণ এখন ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যাদের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৭০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

সংসদে উপস্থাপন করা তালিকায় শীর্ষ দশ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা আট হাজার কোটি টাকার ওপরে। এর বাইরেও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের ঋণ অনাদায়ী রয়েছে। অনেকই আবার ঋণ:পুন তফসিল করে খেলাপির তকমা থেকে পার পেয়েছেন সুকৌশলে।

ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই বিপুল অর্থ ফেরত আনা অসম্ভব বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। দেশে এর আগেও ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু টাকা উদ্ধার হয়নি। বরং জনগনের করের টাকা দিয়ে ব্যাংক বাচাঁনো হয়েছে বার বার।

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান

Leave a comment