সরকার কি জনসংখ্যা বাড়াতে চাইছে?

গাজীপুরের গ্রাম মারতা। পরিবার পরিকল্পনার কোনো মাঠকর্মীকে গ্রামবাসী শেষ কবে দেখেছে কেউ মনে করতে পারে না। অথচ পুরো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যখন ১.৩৭; গাজিপুরে তখন এই হার ৫.২১%। এমন অবস্থা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ আর সিলেটেও।

গেলো ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম। এমনকি ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’, এই স্লোগান বদলে আবারো, ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দুই সন্তানই যথেষ্ট’, এমন স্লোগানে ফিরেছে সরকার। বেশি সন্তান নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার এই স্লোগান বিপর্যয় ডেকে আনবে বলছেন গবেষকরা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দাবি, জনসংখ্যা এ দেশের সম্পদ।

পরিবার পরিকল্পনার সাথে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য এবং জন্ম মৃত্যু অর্ন্তভুক্ত। ৩ থেকে ৪ বছর পর পর হয়ে থাকে ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভে বা জনস্বাস্থ্য সমীক্ষা। ২০১৪ সালের সমীক্ষায় লাখে ১৯৪ জন মাতৃমৃত্যুর পরিসংখ্যান পাওয়া গলেও ২০১৭ এর সমীক্ষায় এই হার দাঁড়ায় ১৯৭। মাতৃমৃত্যুর এই জরিপ সরকার গ্রহন না করায় গেলো ৬ বছর ধরে জানা যায়নি দেশ কতটা সফলতা অর্জন করেছে।

দেশের জনসংখ্যাকে শক্তি বলে মনে করছে সরকার। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ১১ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে পাঁচ কোটিই কর্মহীন। এরপরও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের পরিবর্তে দুটি সন্তান নেয়ার জন্য স্লোগানে ফিরেছে সরকার। গেলো ১১ বছর পরিবার পরিকল্পনায় মাঠ পর্যায়ের কোন কর্মী নিয়োগ হয়নি।

কেবল তাই নয় গেলো ৫ বছরে এই দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহার মাত্র ১ শতাংশ বেড়ে ৬২.৩ দাড়িয়েছে। এই হার ২০১৫ সালে ৭২ শতাংশ করার পরিকল্পনা ছিলো সরকারের। এখন সেই চিত্রটা কি; সেটাও জানা নেই কারো।

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান

Leave a comment