ইউটিউব আর মডেলিং নিয়ে ব্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণরা

বুড়িয়ে যাওয়ার তকমা ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণরা। মডেলিং কিংবা ফ্যাশনের মতো নতুন কোনো পেশা বেছে নিয়ে পাল্টে দিচ্ছেন চিরাচরিত ধারণা। বয়সের ভার ছেড়ে ফুরফুরে মেজাজে গড়ে তুলছেন ইচ্ছে আর স্বপ্ন পূরণের এক জগৎ। বয়েসী এই মানুষদের চাওয়াকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে করা হয়েছে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় একজন মডেল কাঁচা-পাকা চুলের কিম চিল ডু। অর্ধেকের চাইতেও কম বয়সী মডেলদের পাশে বীরদর্পে হেঁটে বেড়াচ্ছেন রানওয়েতে। গত বছর সিউল ফ্যাশন উইকেও ছিল তার আত্মবিশ্বাসী অংশগ্রহণ।

মডেলিং জগতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সিনিয়র কিম। তরুণ বয়সে নিজের ইচ্ছের জলাঞ্জলি হলেও ৬৫ বছর বয়সে হাঁটছেন সেই স্বপ্নের পথে। শুধু র‌্যাম্পে হাঁটা নয়, বিজ্ঞাপনের মডেলিং আর ইউটিউবে প্রাণ সঞ্জীবনী বক্তব্য দিয়েও ব্যস্ত সময় কাটছে কিমের।

দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্রুত গতিতে বাড়ছে এমন বয়েসী মানুষের সংখ্যা। কিমের মতো অনেকেই বার্ধক্যে এসে অবসরের বদলে বেছে নিচ্ছেন ভিন্নধর্মী কোনো পেশা।

বয়স্কদের প্রশিক্ষণ দিতে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানও। চালু হয়েছে মডেলিং, মিডিয়া আর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হাতে-কলমে তালিম দেয়ার বিভিন্ন কোর্স। ইউটিউবে রান্নার ভিডিও কিংবা পপ গান গেয়েও জনপ্রিয় হয়েছেন অনেক প্রবীণ।

জীবন যাত্রায় তাদের এমন অংশ গ্রহণে বেড়েছে ফ্যাশন আর প্রসাধনীসহ বয়স্কদের নানা পণ্যের বেচা-কেনা। কোরিয়ার সরকারি সংস্থার হিসেবে, ২০০২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রবীণদের বাজার বেড়েছে পাঁচগুণ। বয়স নয়, সময় পাল্টে দেয়া এই প্রবীণদের কাছে জীবন মানে আনন্দের সাথে বাঁচা।

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান

Leave a comment