পুরানো কারাগার হচ্ছে জাদুঘর

পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে গড়ে তোলা হচ্ছে, কারা ইতিহাস সংরক্ষণ জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষিত থাকবে বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের স্মৃতিচিহ্ন, জাতীয় চার নেতা হত্যার ও যুদ্ধাপরাধিদের ফাঁসির মঞ্চ। এছাড়া ৩৭ একরের এই কমপ্লেক্সে থাকবে সুইমিংপুল, সিনেপ্লেক্স এবং জিমনেশিয়ামসহ বিনোদনের নানা সুবিধা।

২শ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। মোগল সুবাদার ইব্রাহিম খানের আমলে একটি দূর্গ হিসেবে নির্মিত হয় এটি। ১৭৮৮ সালে দুর্গের ভেতরে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয়। পরে সেটিই রূপান্তর হয় কারাগারে।

৩৭ একরের এই স্থাপনার সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ সৃষ্টির আগের ও পরের নানা সংগ্রামের স্মৃতি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিনতা আন্দোলনের নানা ধাপে এখানেই বন্দিজীবন কাটিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। এ স্থাপনা ৪১ বছর ধরে বহন করছে জাতীর ৪ সূর্যসন্তানকে হত্যার কলঙ্কিত স্মৃতি।

সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে কলঙ্ক মোচনের ইতিহাসও। এখানেই কার্যকর হয়েছে যুদ্ধাপরাধিদের। ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার খুনীদেরও।

২০১৬ সালে নাজিমউদ্দিন রোড থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তরের পর কারাগারটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। স্থাপতি দিদারুল ইসলামের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে সেই কর্মযজ্ঞ।

ঐতিহাসিক ভবনগুলোকে ঠিক রেখেই যাদুঘর হিসেবে সাজানো হবে ৩৭ একরের পুরো এই এলাকা।

৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।

 

Leave a comment