আরেক দফা বাড়ল গ্যাসের দাম

ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় সব ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি। জুলাইর প্রথম দিন থেকেই বাসাবাড়ির মিটারবিহীন দুই চুলার জন্য বিল গুণতে হবে ৯৭৫ টাকা। আর এক চুলার জন্য ৯২৫ টাকা। যা বর্তমানে ৮০০ ও ৭৫০ টাকা। ক্ষুদ্র শিল্প ছাড়া সব ধরণের গ্যাসের দাম গড়ে ২ টাকা ৪২ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন – বিইআরসি।

জুলাই মাসের গ্যাসের বিলের সাথে কার্যকর হবে এই নতুন দাম। এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি আমদানি এবং তার দাম সমন্বয়ের কথা বলছে কমিশন।

তবে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর অবৈধ সংযোগ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বাড়তি বিল আদায় বন্ধে কমিশনের কোন উদ্যোগ আছে কিনা, জানতে চাইলে সুস্পষ্ট কোন জবাব দেয়নি কমিশন।

গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, গ্যাসের বাড়তি দাম সব কিছুর ওপরই প্রভাব ফেলবে। ফলে জীবনধারণ কঠিন হয়ে উঠবে। এদিকে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ক্যাবের জ্বালানী উপদেষ্টা শামসুল আলম দাবি করেছেন, তিতাসের দুর্নীতি ঢাকতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

গ্যাসের দাম বাড়া মানে কেবল রান্নার চুলার খরচ বাড়াই নয়। গ্যাসের দাম বাড়লে খরচ বাড়ে দৈনন্দিন জীবনের সব কিছুর। ঘর থেকে বাইরে বেরুলেই গুণতে হয় বেশি টাকা। বাজারে বাড়ে সব রকম পণ্যের দাম। একদিকে বাড়ে পণ্যের উৎপাদন খরচ। অন্যদিকে বাড়ে পণ্যের পরিবহন খরচ। সব মিলে গ্যাসের বাড়তি দাম পাল্টে দেয় মাস খরচের সব হিসাব নিকাশ।

তাই গ্যাসের দাম বাড়ার খবরে ক্ষুব্ধ ও রীতিমতো আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। স্বল্প আয়ের মানুষেরা বলছেন জীবন ধারণের সব খরচ বাড়লেও তাদের উপার্জন তো বাড়েনি।

ভোক্তাদের সাথে একমত কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও। সংস্থার জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টার দাবি, তিতাসের দুর্নীতির রাশ টেনে ধরার চেষ্টা না করে উল্টো গ্যাসের দাম বাড়িয়ে মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। সে বছরের মার্চ ও জুলাইয়ে দুই ধাপে তা কার্যকর করার কথা থাকলেও মার্চেই দাম কার্যকর করা হয়। পরে জুলাই মাসে আরেক দফা দাম বাড়ানোর কথা থাকলেও হাইকোর্টের আদেশে সেটি স্থগিত হয়।

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান

Leave a comment