২২ বছরেও পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি হংকং

‘এক দেশ, দুই নীতির’ ঘোষণা দিয়ে হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সে অনুযায়ী চীনের কাছ থেকে আধা-স্বায়ত্তশাসন আর স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার নিশ্চয়তা পায় হংক। ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক এই ঘটনার মধ্য দিয়ে হংকংয়ে অবসান ঘটে প্রায় ১৫৬ বছরের ব্রিটিশ শাসনের। কিন্তু ২২ বছরেও পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি হংকংয়ের মানুষ।

১৮৪২ চীন যুক্তরাজ্যের প্রথম আফিম যুদ্ধের অবসান হয়। এরইমধ্যে ১৮৪১ সালের ২৫ জানুয়ারি ব্রিটেন হংকং দ্বীপ দখল করে সামরিক ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করে।

১৮৪২ সালের ২৯ আগস্ট নানজিং চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে বৃটেনের কাছে সমর্পণ করতে বাধ্য হয় পরাজিত চীন। এরমধ্য দিয়ে হংকং বৃটিশ সাম্রাজ্যের ক্রাউন কলোনিতে পরিণত হয়।

১৮৬০ সালে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ শেষে হংকংয়ের কাছের দ্বীপাঞ্চাল কাউলোনও দখলে নেয় যুক্তরাজ্য। এসময় কাউলোনকে হংকংয়ের অন্তরভুক্ত করা হয়। কয়েক দশক পর ১৮৯৮ সালে হংকংকে ৯৯ বছরের জন্য ব্রিটেনের কাছে লিজ দেয় চীন।

আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নির কেন্দ্র হংকং দেড় শ’ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে চীনকে ফিরিয়ে দেয়া হয় ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই।

তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত বেঁধে দেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচার। শর্তে বলা হয়, পরবর্তী ৫০ বছর এক দেশ, দুই পদ্ধতি ফর্মুলার অধীনে চলবে হংকং। এই পদ্ধত্তির অধীনে হংকং চীনের কাছ থেকে আধা-স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার নিশ্চয়তা পায়।

১৯৯৭ সালের ৩০ জুন মাঝ রাতে ঐতিহাসিক মুহুর্তে ব্রিটিশ জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে হংকাংয়ে নামানো হয় ঔপনিবেশিক পতাকা। প্রথমবারের মতো এক সাথে উড়ানো হয় আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকং ও চীনের দুটি পতাকা।

এরমধ্য দিয়ে প্রধান নির্বাহীর হাতে ক্ষমতা বুঝে দিয়ে বিদায় নেন হংকংয়ে বৃটেনের শেষ গভর্ণর ক্রিস প্যাটেন।

প্রতিবেদক : মাহফুজুর রহমান

ওয়েব সম্পাদনা : সালমা সাবিহা খুশি

Leave a comment