উজাড়ের পথে অ্যামাজন রেইনফরেস্ট

উজাড় হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গহীন বন, ব্রাজিলের অ্যামাজন রেইনফরেস্ট। প্রতিদিনই কাটা হচ্ছে গাছ, চাষবাষের জন্য দখল হচ্ছে জমি। হুমকির মুখে পড়েছে বুনো জীবন আর জঙ্গলে মিশে থাকা আদিবাসীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারের ইন্ধনেই বনের চারপাশে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে একটি মহল। দখলের রাজত্বে বিলীন হতে বসেছে সংরক্ষিত সাতশোটি বনাঞ্চল। আদিম আগুন আর শিকারই ভরসা। বেঁচে থাকার সহজ মন্ত্র জানে অ্যামাজন রেইন ফরেস্টের এই মানুষেরা। বুনো জীবনের এই স্বাধীনতা তবু রাজনীতির পাকে ছাড়িয়েছে জল-জঙ্গলের সীমানা।

ঝোঁপঝাড় সাবাড় করে বানানো এই পথ নতুন এক শঙ্কার। তাদের বিশ্বাস, সরকারের ইন্ধনেই চুড়ি হচ্ছে গাছ, উজাড় হচ্ছে বন। যুদ্ধের উত্তেজনা তাই রক্ত আর ধমনীতে। বাঁচতে হলে লড়তে হবে, চলছে তারই প্রস্তুতি।

আদিবাসীরা জানান,

“১. প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ক্ষমতায় এসেই আমাদের জমি কেড়ে নিতে চাইছে। এটাই আমাদের ভয়। তার কথা হচ্ছে, এই জঙ্গল নাকি আমাদের না।

২. তিনিতো আমাদের কথা তেমন বলেন না। যাওবা কিছু বলেন, সেটা আমাদের আর আমাদের শিশুদের নিয়ে খারাপই বলেন। তাই আমরা তাকে পছন্দ করি না।”

অ্যামাজনের গভীর সবুজ বনকে চারপাশ থেকে অনেকটা চেপে ধরেছে কৃষকেরা। প্রেসিডেন্টও বলছেন এই বনের জমি তাদেরই দেয়া উচিত। অকারণেই বিশাল এক ভূখন্ড দখল করে আছে আদিবাসীরা।

স্যাটেলাইটের ছবি বলছে, প্রতিদিন একটা ফুটবল মাঠের সমান খালি হয়ে যাচ্ছে অ্যামাজনের রেইন ফরেস্ট। আর আদিবাসীদের হুমকি-ধামকির সাক্ষী সংরক্ষিত এই বনের সীমানা ফলকে এসব গুলির দাগ। বিস্তীর্ণ এই বনভূমির ওপর হামলে পড়তে চায় জঙ্গলের কাছে ঘাঁটি গেড়ে বসা কৃষকরা।

ভূমিহীন কৃষকদের অভিমত , “কেন এই বনকে রক্ষা করতে হবে, কেন এই পরিবেশ সংরক্ষণ। এতো লোকের কোনো জমি নেই, অথচ সব তারাই দখল করে রাখবে? এই জমিতে তো আমাদেরও অধিকার আছে।”

একদিকে ভূমিহীন কৃষকের তেঁতে ওঠা কথা আর অন্যদিকে আদিবাসীদের পিতৃপুরুষের অধিকার। অ্যামাজন বনের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে এক অনিশ্চয়তা।

প্রতিবেদক : হৈমন্তী শুক্লা

ওয়েব সম্পাদনা : সালমা সাবিহা খুশি