জামা-কাপড় বানানোর ওপরও ভ্যাট!

দেশীয় পোশাক কেনা আর জামা-কাপড় বানানোর ওপর ভ্যাট বসানোয় রীতিমতো চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, এতে করে বাড়বে নিম্ন-মধ্যবিত্তের জীবন-যাত্রার খরচ । আর ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হওয়ায় নতুন করে ভ্যাটের হার বাড়ানোয় রাজস্ব আহরণ ততটা বাড়বে না। বরং এ খাত থেকে, দূর্নীতি বাড়ার আশংকা অর্থনীতিবিদদের।

চলতি মাসে দর্জিবাড়িতে যারা জামা কাপড় বানাতে চাইছেন তাদের জন্য দু:সংবাদ । কারণ এ মাস থেকেই জামা কাপড় তৈরিতে বসছে ১০ শতাংশ ভ্যাট ।

পোশাক বানাতে গিয়ে একশো টাকায় বাড়তি দশ টাকা পকেট থেকে বের হওয়ার ঘোষণায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ক্রেতারা । বলছেন, এতে করে বাড়বে জীবন-যাত্রার ব্যয়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন , ভ্যাট ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে এখনো অন্ধকারে তারা। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিভাবে ভ্যাট আদায় করা হবে সে বিষয়ে এখনো নির্দেশনা মিলেনি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হওয়ায় বেশিরভাগ দোকানেই নেই ভ্যাট আদায়ের ইলেকট্রনিক মেশিন।

এখানেই শেষ নয় , যারা দেশীয় পোশাক পরতে চাইছেন, শোরুমে গিয়ে পোশাক কিনতে গুণতে হবে বাড়তি খরচ। কারণ এখন থেকে ব্র্যান্ড পোশাকে আগের চেয়ে আড়াই শতাংশ বেশি ভ্যাট দিতে হবে।এতেও চাপে পড়বেন মধ্যবিত্তরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি বলছে, এ দুই খাতে বাড়তি ভ্যাট বসালেও সেখান থেকে সরকারের আয় হবে কমই। এর সুযোগ নেবে ব্যবসায়ীরা ।

বিশ্লেষকরা বলছেন , অপ্রাতিষ্ঠানিক এ খাতগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক করার আগে এমন পদক্ষেপে দূর্নীতি বাড়বে। তাই ভ্যাটের সুষ্ঠু সুফল পেতে আবারো খাত যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ দিলেন অর্থনীতিবিদরা। নতুন আইনের রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) মেশিনের ব্যবহার নিশ্চিতের কথা বলছেন তারা ।

প্রতিবেদক: কাবেরী মৈত্রেয়

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান