চীনে নিখোঁজ হচ্ছে মুসলিম শিশুরা !

নিজের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে পরিবার থেকে আলাদা করা হচ্ছে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলিম শিশুদের। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য নথি বিশ্লেষণ করে বিবিসির গবেষণা বলছ, এজন্য আবাসিক স্কুলও তৈরি করা হয়েছে। আর ৬০ জনেরও বেশি নির্বাসিত বাবা-মা জানিয়েছেন, তাদের শিশুদের নিখোঁজ হবার কথা।

আদরের সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা নিয়ে দিন কাটছে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের হাজারো মুসলমান বাবা-মার।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলমান শিশুদের, পরিবার থেকে আলাদা করে ভাষা সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের শেকড় উৎপাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন তথ্যই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে।

সম্প্রতি উইঘুর থেকে তুরস্কে আশ্রয় নেয়া ৬০টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয় বিবিসি। তারা জানান, তাদের প্রায় একশো শিশুর কোন খোঁজ নেই। প্রশ্ন ছিল কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এই শিশুদের?

এমন অনিশ্চয়তার মাঝেই, তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সন্তানের একটি ভিডিও দেখেন অনলাইনে। চমকে ওঠেন তুরস্কে আশ্রয় নেয়া আবদুর রহিম। ভিডিওতে দেখেন, একটি এতিমখানায় থাকা প্রিয় সন্তান কথা বলছে মাতৃভাষা উইঘুরে নয়, চীনা ভাষায়।

তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম আমার ছেলেকে দেখলাম। কাঁন্না ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। তাদের উদ্যেশ্য শিশুদের চীনা হিসেবেই পরিচিত করার।

বিবিসি জানায়, সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ের একটি শহর থেকে এমন চারশ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছে। একই সাথে বাবা মাদেরও বন্দি শিবির বা কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।আবার আটক কেন্দ্রের কাছেই গড়ে উঠেছে শিশুদের ক্যাম্প। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন সরকার।

এমন কোনো ঘটনা নেই। শিশুদের ক্ষেত্রে এটা খুবই স্বাভাবিক। প্রতিটা পরিবারই শিশুদের পড়ালেখার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের হিসেবে, গত কয়েক বছর ধরে প্রায় ২০ লাখ উইঘুর মুসলমানদের আটকে রাখা হয়েছে। তবে, সমালোচকরা বলছেন, শিশুদের সাথে এমন আচরণের মাধ্যমে মূলত উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের শেকড় উৎপাটন করছে কমিউনিস্ট সরকার।

প্রতিবেদক : হৈমন্তী শুক্লা

ওয়েব সম্পাদনা : জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়