রিকশাহীন সড়কে দুর্ভোগের দুঃশ্চিন্তায় যাত্রীরা

ঝিনাইদহের শহিদুল মিয়া। গেলো চারবছর ধরে রামপুরার এই সড়কে রিকশা চালান। রাত কাটান রামপুরার একটা রিকশা গ্যারেজে। আর পরিবার থাকেন ঝিনাইদহে। তার আয়ের একটা বড় অংশই পাঠিয়ে দেন গ্রামে। এই সড়কে আর রিকশা চলবে না; এমন খবরে চিন্তায় পড়ে গেছেন শহিদুল।

নীলফামারির সিরাজুল ইসলাম পরিবার নিয়েই ঢাকায় থাকেন। নিজের এলাকায় উপার্জনের কোন উপায় না পেয়েই তার ঢাকায় রিকশা চালানো। রবিবার থেকে ধানমন্ডির এই সড়কে আর রিকশা চালাতে পারবেন না সিরাজুল। চালাতে হবে গলিপথে। তাতে তার কতো আয় হবে, সংসার চলবে কিনা এমন চিন্তা সিরাজুলের।

সিরাজুল আর শহিদুলের মতোই গাবতলী আজিমপুর সাইন্সল্যাব শাহবাগ, কুড়িল রামপুরা খিলগাও ও সায়েদাবাদ এলাকায় চলা রিকশাওয়ালারা আয় কমার শঙ্কায় আছেন। কাল থেকে রাজধানীর বেশ কিছু সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সিটি কর্পোরেশন। গাবতলী থেকে আসাদগেট হয়ে আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব থেকে শাহবাগ এবং কুড়িল থেকে রামপুরা হয়ে খিলগাঁও ও সায়েদাবাদ পর্যন্ত বন্ধ হবে রিকশা চলাচল। তবে এতে করে আয় কমে যাবার শঙ্কায় আছেন রিকশাওয়ালারা।

আর রিকশাহীন সড়কে দুর্ভোগের দুঃশ্চিন্তায় আছেন যাত্রীরাও। স্বল্প দূরত্বে চলা যাত্রীরাও এর সমালোচনা করছেন। নগর পরিবহনে যখন কোন শৃংখলা ফেরেনি, ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যখন একটা বাস মেলে না তখন রিকশা তুলে দেয়াটাকে সমাধান মনে করছেন না নগরবাসী।

সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে রিকশা বন্ধের বিষয়টিকে স্থায়ী রূপ দেবে সিটি কর্পোরেশন।

প্রতিবেদক: ডলার মেহেদী

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান