২২ লাখ রিকশাচালক ও তাদের ওপর নির্ভর করে বাঁচা ১ কোটি মানুষের খবর কি?

এ শহরে ৪০ শতাংশ মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্ভরশীল রিকশার ওপর। আবার এ যানের প্রতিটি প্যাডেলে চাপের ওপর ভর করেই চলে রিকশাচালকদের জীবন-জীবিকা, অন্ন-বস্ত্র। রাজধানীতে কতো মানুষ রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করে এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য-উপাত্ত সরকারের হাতে নেই। তবে বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বলছে, সবমিলিয়ে এ সংখ্যা ২২ লাখের কম নয়। যাদের ওপর নির্ভরশীল আরো প্রায় এক কোটি মানুষ। গ্রামে কাজের সুযোগ কমে আসা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূমিহীন হওয়াসহ নানা কারণে এরা শহরমুখী হয়েছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

সারাদেশে ঠিক কতটি রিকশা আর কতোজন মানুষ এই পেশায় জড়িত তা নিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর কোন সঠিক তথ্য উপাত্ত নেই। ২০১৪ সালে বস্তিশুমারির তথ্য হলো: বস্তিতে বাস করেন এমন একশো জনে ৬ জনই রিকশাচালক। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বলছে, রাজধানীতে রিকশাচালকের সংখ্যা ২২ লাখের বেশি। আর প্রত্যেকের আয় কমপক্ষে ১৩ হাজার টাকা।

বেশিরভাগ রিকশাচালক বলছেন, গ্রামে রুটি-রুজির পথ সীমিত হওয়ায় শহরমুখী হচ্ছেন তারা। দৈনিক ৯ ঘন্টা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যা আয় হয়, তার বেশিরভাগই চলে যায় ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য খরচে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী শহরমুখী হওয়ায় নগরেও বাড়ছে দারিদ্র্য। তাই দারিদ্র্য কমাতে গ্রামেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ তাদের। তারা বলছেন, রিকশাচালকদের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি যাচ্ছে। এ কারণে, এসব মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে, আরেকটু এগোবে দেশের অর্থনীতি।

প্রতিবেদক: কাবেরী মৈত্রেয়

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান