গ্রামীণফোনের বাকি খাওয়া বন্ধ, বাতিল হতে পারে লাইসেন্স

বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত শাস্তিমূলকভাবে গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ব্যান্ডউইডথ ব্লক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সংস্থাটি বলছে এখন আইনগত শালিসি প্রক্রিয়া বা আর্বিট্রেশনেরও সুযোগ নেই। প্রয়োজনে লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে। বিষয়টিকে হতাশাজনক এবং বিস্ময়কর বলছে গ্রামীণফোন। তবে আলোচনার জন্য বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে দেশের বৃহত্তম এই মোবাইল অপারেটর।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিয়ে ২০১০ সালেই গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। কিন্ত তখনি আদালতে যায় গ্রামীণফোন। পুনরায় অডিটের নির্দেশ দেয় আদালত। নির্দেশের দীর্ঘ ১৮ বছর পর অডিট শেষ করে বিটিআরসি। এতে বিটিআরসির পাওনা দাড়িয়েছে প্রায় ১২হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কিছু আছে জাতীয় রাজস্ববোর্ডের।

পাওনা আদায়ে বৃহষ্পতিবার গ্রামীণফোনকে আবার চিঠি দেয় বিটিআরসি। পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত শাস্তিমূলক ৩০শতাংশ ব্যান্ডউইডথ ব্লকের সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়। এর ফলে গ্রাহক ভোগান্তি তুলে ধরা আর নিজেদের অবস্থান জানাতেই রোববার এই সংবাদ সম্মেলন করে গ্রামীণফোন। এর শীর্ষকর্তা বলেন তারা আর্বিট্রেশন বা শালিস চান আর এনিয়ে বিটিআরসিকে চিঠিও দিয়েছে তারা।

তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলছেন, আর্বিট্রেশনের কোন সুযোগ আইনে নেই। এটি গ্রামীণফোনের সময়ক্ষেপণের অজুহাত মাত্র। দেশের স্বার্থেই এই বকেয়া পরিশোধ করা উচিত তাদের।

গ্রাহকদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের পরামর্শ হলো তাদের একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। আর আর্বিট্রেশন না হলেও আলোচনার দরজা সবসময় খোলা আছে জানায় বিটিআরসি। বিটিআরসি কর্মকর্তারা আরো জানান আইনে আরো শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ থাকলেও, গ্রাহকের কথা ভেবেই আপাতত তেমন কঠিন পদক্ষেপে যায়নি তারা।

প্রতিবেদক: রাকিব হাসান

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান