৩ স্কুলছাত্রী অপহরণ, একজনের গাড়ি থেকে লাফ !

গাজীপুরে তিন স্কুলছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে অপহরণের পর মাইক্রোবাসটি সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী পৌঁছায়। রাতে নগরীর তালাইমারী এলাকায় তিন জনের মধ্যে একজন ছাত্রী মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়। সে সময় একজন দোকানি তাকে উদ্ধার করে নগরীর মতিহার থানায় হস্তান্তর করেছে।

উদ্ধার হওয়া মেয়েটির নাম মিতা আক্তার ওরফে বর্ষা। তার বয়স ১৪ বছর। সে গাজীপুরের মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি শ্রীপুরের শান্তিনগর এলাকায়। বর্ষার বাবার নাম মতিউর রহমান।

বর্ষা জানিয়েছে, অপহরণ হওয়া অপর দুই শিক্ষার্থীর নাম জ্যোতি ও মেঘলা। তার সঙ্গেই পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে দু’জনের পুরো পরিচয় জানাতে পারেনি বর্ষা।

বর্ষা আরো জানায়, এদিন সকাল নয়টার দিকে তারা স্কুল যাচ্ছিল। পথে তাদের তিনজনকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর তার আর জ্ঞান ছিল না। জ্ঞান ফেরার পরে গাড়িটি এক জায়গায় দাঁড়ালে বর্ষা দরজা খুলে লাফ দিয়ে নেমে দৌড় দেয়। লাফ দেয়ার সময় তার দুই সহপাঠী অচেতন ছিল। তাদের পরনেও স্কুল ড্রেস রয়েছে বলে জানায় বর্ষা।

পরে হাসিবুর রহমান চৌধুরী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি তালাইমারী মোড়ে বর্ষাকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, তার ওষুধের দোকানের সামনে রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একটি মেয়ে দৌড়ে এসে কান্নাকাটি করতে থাকে। তার পরিচয় জানার পর অপহরণের ঘটনাটি জানায় মেয়েটি।

তিনি বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে মতিহার থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি। ওসি থানা থেকে লোক পাঠাতে চান। কিন্তু পুলিশের দেরি হচ্ছিল দেখে আমি নিজেই থানায় মেয়েটিকে দিয়ে আসি।

এ প্রসঙ্গে মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন বলেন, পুলিশ মাইক্রোবাসটির সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাসকে থামাতে বলা হয়েছে।

ওয়েব সম্পাদনা : জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়