বয়স্ক আর ক্ষুধার্ত ঘোড়ারা

কাজের ক্ষমতা না থাকায় কক্সবাজার শহরে অযত্নে আর অবহেলায় ঘুরছে কমপক্ষে আড়াই’শ ঘোড়া। পরিবেশ কর্মীরা জানান এক সময় টাকা দিয়ে এই ঘোড়া চড়তো সৈকতের পর্যটকরা। বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় এগুলো এখন আর পিঠে বোঝা নিতে পারে না। তাই খাবার ও পরিচর্চার খরচ না দেয়ার ঘোড়াগুলোকে শহরে ছেড়ে দিয়েছে এর মালিকরা।

সারা দিন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর্যটক চড়িয়ে আয় করার পর রাস্তার খাবার খুঁজে খায় সৈকতের ঘোড়াগুলো।

এভাবে অনাদরে অবহেলায় রোগাক্রান্ত হয় ঘোড়াগুলো। তাকালেই দেখা যাবে বেশিরভাগেরই শরীরের লোম উঠে যাচ্ছে। বিবর্ণ হচ্ছে চামড়া।

এই সব ঘোড়ার শ্রমিকরা জানান পিঠে চড়িয়ে সৈকতের পর্যটকদের বাড়তি বিনোদন দেয় ঘোড়াগুলো। অথচ এই কঠোর পরিশ্রমের জন্যে যে পরিমান খাবার দরকার হয় তার অর্ধেকও দেয়া হয় না ঘোড়াগুলোক।

ঘোড়ার মালিকরা বলছেন, প্রতিদিন ঘোড়াআরোহীদের কাছ থেকে যে অর্থ আসে তা দিয়ে খাবারের যোগান দেয়া সম্ভব হয়না। যা আসে তা শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে ভাগাভাগিতে শেষ হয়ে যায়। তিনি স্বীকার করলেন, ঘোড়া অক্ষম হলে তা পরিত্যক্ত বলে ছেড়ে দেয়া হয়।

কক্সবাজারের প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা বললেন, নিরীহ এই প্রাণীগুলো মানুষের নির্মমতার শিকার। অথচ প্রতিটি ঘোড়ার জন্যে ঘাস, খড়, ভূসি পানি মিলিয়ে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি খাবারের দরকার। দরকার সামান্য চিকিৎসাসেবা।

আর পরিবেশবাদীরা বলছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানীসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশি দুর্বল ঘোড়া। এগুলোর মালিকানাও স্বীকার করছে না কেউ।

প্রতিবেদক: কামরুল ইসলাম মিন্টু
ওয়েব সম্পাদনা: শম্পা বিশ্বাস