চুপিসারে বিজ্ঞাপন; গোপনে টেন্ডার

সরকারি বেশ কটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গোপনে টেন্ডার করে সরকারি টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সড়ক ও জনপথ এবং গণপূর্ত বিভাগ। এখানকার প্রকৌশলীরা বছরের পর বছর গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না কখনো।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রের জন্য অনলাইন টেন্ডারের নিয়ম চালু হয়েছে ২০১৫ সালে। টেন্ডার বানিজ্য বন্ধ করে সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করাই ছিলো এর কারণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তটি মানা হচ্ছেনা। বরং পুরনো পদ্ধতিতে অখ্যাত পত্রিকায় চুপিসারে বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়া হচ্ছে।

২০১৬ সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার মৃধা স্বাক্ষরিত একটি দরপত্র ছাপা হয় ঢাকার অখ্যাত একটি পত্রিকায়। এটি ছিলো যন্ত্রাংশ কেনার একটি দরপত্র। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বরে একই প্রতিষ্ঠানের ক্রয় সংক্রান্ত আরেক দরপত্র ছাপা হয় আরেকটি অখ্যাত পত্রিকায়। এখানেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে তখনকার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আখতার,উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী ছায়েফুজ্জামান ও আবু তাহীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যা স্বীকার করেন এখনকার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীও।

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মানেও একই অভিযোগ ওঠে সে সময়কার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে। অনলাইন দরপত্র বাদ দিয়ে দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে কাজ দেয়ার কথা বলা হলেও; খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন কোন বিজ্ঞাপন ওই পত্রিকায় আদৌ ছাপা হয়নি। এখানেও ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। গনপূর্তের গোপালগঞ্জ অফিসের বিরুদ্ধেও নিয়মবহির্ভুত বিজ্ঞাপন ছাপানোর মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগে কারও বিরুদ্ধেই কোন ব্যবস্থা কখনও নেয়া হয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

মন্ত্রী জানান দুর্নীতিবাজদের ধীরে ধীরে নির্মূল করা হবে।

প্রতিবেদক: মহিম মিজান

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান