গতবারের চামড়াই এখনও অবিক্রিত, আসছে কোরবানী

গেলো অর্থবছরে দেশে প্রক্রিয়াজাত হয়েছিলো সাড়ে ৪৫ কোটি বর্গফুট চামড়া। এর অর্ধেকেই এখনো মজুদ রয়ে গেছে বলে দাবী করছে ট্যানারি মালিকরা। তাদের মতে স্থানীয় বাজারে চামাড়ার চাহিদা এবং ব্যবহার বেড়েছে তবে কমপ্লায়েন্স জটিলতায় কমেছে রপ্তানি। সাভারে চামড়া শিল্পনগরীটি পরিবেশবান্ধব হলে আর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্যযুদ্ধ থামলেই রপ্তানি আবার বাড়বে।

সদ্যবিগত অর্থবছরে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার রপ্তানি কমেছে আগেরবারের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি। তারপরও চামড়া শিল্পের এই উপখাত থেকে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ১শো ৬৬ মিলিয়ন ডলার। যা টাকার অংকে প্রায় ১ হাজার চারশো কোটির মতো।

প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি বাড়াতেই দু’বছর আগে বুড়িগঙ্গা দুষণের অন্যতম কারণ হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোকে জোর করেই সাভারে সরানো হয়েছিলো। তবে আধুনিক দাবী করলেও সাভার চামড়া শিল্পনগরী কার্যকরভাবে আধুনিক হয়নি। এরই মাসুল গুনছে রপ্তানির এই উপখাত।

নতুন করে চামড়া সংগ্রহের সবচে বড় মৌসুম কোরবানীর ঈদ আসতে এক মাসও বাকি নেই। এখন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে গেল বার সংগ্রৃহিত চামড়ার অর্ধেকই এখনো অবিক্রিত। রপ্তানি কমার জন্য চীন যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্যযুদ্ধকেও দায়ী করছে সংগঠনটি। তাদের মতে রপ্তানি বাড়াতে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করে বিশ্ব স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ পেতে হবে বাংলাদেশকে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে স্থানীয় চাহিদা বাড়ার কারণে ট্যানারি মালিকরা কিছুটা রপ্তানীবিমুখ হচ্ছে। আর সাভার চামড়া শিল্পনগরীর বেহাল হওয়ার পেছনে সরকারের পাশাপাশি এই মালিকদেরও দায় আছে।

তিনি আরো বলেন, কমপ্লায়েন্স জটিলতা থাকলেও তৃতীয় দেশের মাধ্যমেও এখন বাংলাদেশি চামড়া রপ্তানি হচ্ছে। তবে সরাসরি বিপণন বাড়াতে পরিবেশবান্ধব সনদ পেতেই হবে। আর সেটি পেলেই প্র্রক্রিয়াজাত চামড়ার বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশ আবার বাড়তে থাকবে।

প্রতিবেদক: জাহেদুল ইসলাম

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান