বিপদসীমার ওপরে তিস্তা, যমুনার পানি

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা ও কুশিয়ারার পানি। বন্যাদূর্গত এলাকাগুলো পানিতে ডুবে থাকায় দুর্ভোগে রয়েছে হাজারো মানুষ। এদিকে এখনো স্বাভাবিক হয়নি বান্দরবানের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ।

শনিবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। আর এতে ১৬টি চরগ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। বন্যাদুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে চলছে মাইকিং।

গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৫০সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানির স্রোতে চিনাডুলি ইউনিয়নের ডেবরাইপেচ এলাকার একটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধ্বসে গেছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বইছে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। আর কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর পানি রয়েছে ৩৫সেঃমিঃ ওপরে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও রয়েছে ৩০সেঃমিঃ ওপরে।

রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বইছে ৩৮.২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। আর পানি বেড়েছে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদেও। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলায় শন্করদহ- পূর্ব ইছলি এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যার কারণে জেলায় ২৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে তিনদিন ধরে। এদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী এবং কুশিয়ারা নদীর পানিও রয়েছে বিপদ সীমার ওপরে।

নেত্রকোণায় নতুন করে গুমাই ও কংস নদীর পানি বেড়ে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য নদ নদীর পানি না কমায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের বাজালিয়ার বড়দুয়ারা এলাকায় রাস্তা পানির নীচে থাকায় স্বাভাবিক হয়নি জেলার সাথে সারাদেশের যোগাযোগ।

প্রতিবেদক: মনিরা কাজরী

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান