মহারাষ্ট্রে ১ জেলায় ৩ বছরে জরায়ু কেটে বাদ দেয়া হয়েছে ৪.৫হাজার নারী শ্রমিকের

মুনাফার নির্দয় নিয়তি হয়েছে গর্ভহীন জীবন। ভারতের মহারাষ্ট্রে এক জেলায় তিন বছরে জরায়ু কেটে বাদ দেয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি নারীর। শ্রম আর মজুরিতে ঋতুবতী নারীকে পিছিয়ে রাখা আর অসাধু ডাক্তারদের খপ্পরে পরে এমন করুণ পরিনতির শিকার হয়েছেন আখ শ্রমিকরা।

এই নারীদের কারোরই গর্ভ নেই। সামান্য মজুরির পথে বাধা হয়েছিল তাদের নারীত্বের বেদনা। ঋতুবতী নারী পর্যাপ্ত শ্রম দিতে পারে না, এই ধারণাকে পুঁজি করেই কেটে ফেলা হয়েছে তাদের জরায়ু।

আখ কাটার মৌসুমে শ্রমিক দম্পতির সাথে চুক্তি করে মহাজনরা। স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন অনুপস্থিত থাকলেই গুনতে হয় ৫০০ টাকা জরিমানা। নির্দয় মহাজনের এই চুক্তিতে অসহায় হয়ে পড়েন নারীরা। এই সুযোগেই সামান্য অসুখেও জরায়ু কেটে ফেলার পথ বাতলে দেন চিকিৎসক।

“ডাক্তার আমাকে বলেছেন আপনার জরায়ু ভাল না। তিনি আমাকে বলেন, যদি আমি জলদি জরায়ু ফেলে না দেই, তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত হতে পারে।”

ছয় মাসের পারিশ্রমিক প্রায় পঞ্চাশ হাজার রুপি ধার করে অপারেশন করেন এই নারী। নিষ্ঠুর নিয়ম আর অসাধু ডাক্তারের খপ্পরে পরে তিন বছরে শূন্যগর্ভা হয়েছেন মহারাষ্ট্রের বিড জেলার সাড়ে চার হাজারেরও বেশি নারী।

অরুণডাথি পাটেল, সামাজ সেবক
“প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তাররা খুব সহজেই তাদের বোকা বানিয়ে দিচ্ছে। কারণ তাদের বেশির ভাগই নিরক্ষর হওয়ায় পড়তে জানে না। তাদের কোনো সম্পদ নেই, বা জমি নেই। শুধু এই মৌসুমেই তারা উপার্জন করে। তাই তারা এক দিনও অনুপস্থিত থাকতে চান না।”

জরায়ু ফেলে দেয়ায় নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন এইসব নারীরা। সম্প্রতি বিধানসভায় ৯৯টি বেসরকারি হাসপাতালে এমন অপারেশনের তথ্য তুলে ধরেন শিবসেনার সদস্য নীলম গোড়ি শুধু মাহারাষ্ট্র নয়, বিহার, তামিলনাডু, কেরালাসহ ভারতজুড়েই নিগ্রহের শিকার ঋতুবতী নারীরা।

প্রতিবেদক : হৈমন্তী শুক্লা

ওয়েব সম্পাদনা : সালমা সাবিহা খুশি