এরশাদ ছিলেন বহুমাত্রিক বলছেন বিশ্লেষকরা

গণঅভ্যুত্থানে পতনের পর কোন সামরিক শাসকের রাজনীতিতে ৩৭ বছর টিকে থাকার ইতিহাস বিরল। সেই বিরল ব্যক্তি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দ্রুত সিদ্ধান্ত বদল, কবিতা ও নারী বিতর্কের পাশাপাশি জোট রাজনীতির কৌশলের জন্য এরশাদ সব সময়ই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। শুধু স্বৈরশাসন নয় রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের জন্যও এরশাদকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ । জিয়াউর রহমানের পর দ্বিতীয়বারের মতো যে সামরিক শাসকের অধীনে চলে যায় দেশ, তিনি তৎকালীন সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফ লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সরকারকে হটিয়ে সেনাপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা দখল। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয় বছরের শাসন। এই ৯ বছরে তার স্বৈরশাসনে অতিষ্ঠ জনতা বার বার ফুসে উঠেছে এবং তিনি নিষ্ঠুর ভাবে তা দমন করেছেন। পরিচিত হয়েছেন স্বৈরশাসক হিসাবে ।

৯০ এর ১০ জুন এরশাদের পতন হলে তার বিরুদ্ধে ৪৩ টি মামলা হয়। কিন্তু ৬ বছর জেলে খেটেই ভোটের রাজনীতিতে বড় দুই দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন এরশাদ। জোট বাঁধেন শেখ হাসিনার সাথে। এরশাদের মতো একজন সামরিক শাসক এদেশে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করতে পেরেছেন বড় দুই দলের জন্যই, বলছেন বিশিষ্ট জনেরা।

বিশ্ব বেহায়া বা পল্লীবন্ধু; নানা নামে তিনি স্বীকৃত হয়েছেন এই দেশে। ক্ষমতার কাছকাছি থাকতে তিনি মত বদলেছেন মুহূর্তে মুহূর্তে। বিশ্লেষকরা বলছেন এই সবই ছিলো এরশাদের টিকে থাকার কৌশল।

এরপরও ব্যক্তি হিসেব এরশাদ ছিলেন বহুমাত্রকি বলছেন বিশ্লেষকরা।

 

প্রতিবেদক: নাজনীন মুন্নী

ওয়েব সম্পাদনা: শম্পা বিশ্বাস