‘গণতান্ত্রিক রাজনীতির ক্ষতি করে গেছেন এরশাদ’

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। স্বৈরশাসক থেকে রাজনীতিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু। অংশ নেননি মুক্তিযুদ্ধে। এরপর, সামরিক শাসক থেকে রাষ্ট্রপতি। তার ৯ বছরের শাসনামলকে দেশের ইতিহাসে স্বৈরশাসন হিসাবেই দেখা হয়। গণআন্দোলনে পতনের পরও, এরশাদ ক্ষমতার রাজনীতির কৌশলী হয়ে টিকে ছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

১৯৩০-এর পহেলা ফেব্রুয়ারি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন, হুসাইন মুহামম্দ এরশাদ।

৫০-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান, ভাষা আন্দোলনের বছর, ১৯৫২ সালে।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুর সময় এরশাদ ছিলেন রংপুরে, ছুটিতে। মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে, চলে যান পাকিস্তানে। ফিরে আসেন ১৯৭৩-এ, আটকে পড়া বাংলাদেশীদের সঙ্গে।

১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান তাকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।

বলা হয় জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতাচুত করার পিছনে হাত ছিলো এরশাদের। কথাটি সত্য হয়ে দেখা দেয় ৮২-তে। রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। জারি করেন সামরিক শাসন।প্রথমে জনদল, পরে জাতীয় পার্টি গঠন করেন তিনি রাজনীতির মাঠে নামেন। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জনতা ৮৩-র মধ্য ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সেই প্রতিরোধ দমন করতে তিনি ছাত্র হত্যা ও গ্রেফতারের পথ বেছে নেন। ছাত্রবিক্ষোভের মুখেই তিনি ‘৮৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচন করেন। নিজেকে ঘোষণা দেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ।

এরশাদের ব্যাপক দূনীতি আর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে থাকে দেশের মানুষ। গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ছাত্ররা সব রাজনৈতিক দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে একসাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেন। প্রণীত হয় ছাত্র সমাজের ১০ দফা এবং তিন জোটের রূপরেখা। এরই ভিত্তিতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে, ‘৯০ -এর ছয় ডিসেম্বর পতন হয় এরশাদের স্বৈরাচারি শাসনের।

এবার নতুন অধ্যায় এরশাদের জীবনে। গ্রেফতার হন ৯১তে। কারাবন্দি অবস্থায় ৯১ ও ৯৬-এর নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হয়ে ওঠেন ক্ষমতার রাজনীতির কৌশলী। ভোটের হিসেবে দুই প্রধান দলের জোটের রাজনীতিতে হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ।

২০০০ সালে তিন টুকরো হয় জাতীয় পার্টি। আর ২০০৮ সালের নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়েই, মহাজোট সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

সরকার, সংগঠন, রাজনীতি সহ নানা বিষয়ে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তনের কারনে সমালোচিত ছিলেন তিনি। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি।

জীবনের ৯০ বছর কেটেছে নানাভাবে। কখনো সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, কখনো বা দুর্নীতি মামলায় এরশাদের ঠাঁই হয়েছিল কারাগারে।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, রাষ্ট্রধর্ম করাসহ গণতান্ত্রিক রাজনীতির এমন কিছু ক্ষতি করে গেছেন এরশাদ, যার জের এখনো টানছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদক: তানিয়া রহমান
ওয়েব সম্পাদনা: শম্পা বিশ্বাস