সামনে স্কুলের হোমওয়ার্কের খাতা কিন্তু মনোযোগ হাতের স্মার্টফোনে

দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুটিও এখন ভুগছে স্মার্টফোন আসক্তিতে। শিশুবিকাশ বাধাগ্রস্থ হওয়াসহ নানামুখী শারিরীক জটিলতার ঝুঁকিতে থাকা এসব শিশুর অভিভাবকরা ক্ষতির দিকটি কমবেশী জানেন ঠিকই; তারপরও তাদের সাধারণ অযুহাত শিশুদের সামলানোর জন্যে এর বিকল্প কিছু নেই। আর শিশুসুরক্ষা নিয়ে কাজকরা সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা না গেলে সামনে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে কয়েকগুণ।

রাজশাহীর একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সাদ। স্কুল থেকে ফিরে ব্যস্ত হয়েছে স্মার্টফোন নিয়ে। পাশের রুমে ছোটভাই সাহেল। সামনে স্কুলের হোমওয়ার্কের খাতা। কিন্তু তার মনোযোগ হাতের স্মার্টফোনে।

বরাবরই খাবারে অনীহা দুই ভাইয়ের। তবে হাতে ফোন দিলেই সহজ হয়ে যায় খাবারের ঝক্কি। এতে খুশী তাদের মাও। বাইরে গিয়ে কোন বিপদ ঘটানোর চাইতে ঘরে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকছে সন্তান। এতে বরং স্বস্তিই বোধ করেন তাদের মা।

মৌলভীবাজারের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ছবি এটি। মাত্র তিন বছরেই শিশুটির চোখে উঠেছে মোটা লেন্সের চশমা। তার খেলাধুলা কিংবা বেড়ানোর প্রতিটা মুহুর্তই দিনভর এই ফোনে বন্দী।একই অবস্থা তার দুবছরের বড় বোনটিরও। সমাজের যা দিনকাল; তাতে ফোনেই স্বস্তি খুজছেন বাবা মা।

তিনবছরের এই শিশুর বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের একটি নিম্মবিত্তের পরিবারে। মা-দাদীর সংসারে তারও নিত্য সঙ্গি স্মার্টফোন।

শহর ছাড়িয়ে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদেরও এমন ফোন আসক্তিকে রিতিমতো উদ্বেগজনক বলছে সেভ দ্য চিলড্রেন।

মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ-বলছে ২০২০ সালের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহারে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে ৭ নম্বরে। তখন শিশুদের ঝুঁকির মাত্রা বাড়বে আরও কয়েকগুণ।

প্রতিবেদক: রাকিব হাসান

ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান