তাজমহলকেও ছাড়িয়ে ময়লার ভাগাড়

এক বছরেই তাজমহলের উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যাবে নয়াদিল্লির একটি ময়লার ভাগাড়। আবর্জনার এই পাহাড়ের দুর্গন্ধ আর দূষণে ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন আশপাশের বাসিন্দারা। মাটির তলার পানির স্তরেও ছড়িয়েছে দূষণ। এদিকে আদালতের সতর্কতার পরও বর্জ্যের বিকল্প ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

পাহাড় হয়ে উঠেছে ময়লার এই ভাগাড়। দূষণে আর দখলে থমথমে তার বিস্তার। আয়তনে যা ৪০টি ফুটবল মাঠের সমান।

৬৫ মিটার উঁচু আবর্জনার এই পর্বতে প্রতিদিন জমছে দুই হাজার টন জঞ্জাল। নয়াদিল্লির পূর্ব প্রান্ত ঘাজিপুরে বছরে ১০ মিটার করে বাড়ছে এর উচ্চতা। সেই হিসাবে সামনের বছরই ৭৩ মিটার উঁচু তাজমহলকেও ছাড়িয়ে যাবে দৈত্যাকার এই স্তূপ।

পচাগলা দুর্গন্ধ আর ধোঁয়া গ্রাস করছে চারপাশ। আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য দুর্লভ হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস।

গ্যাসের কারণে মাঝে মাঝেই আগুন ধরে যায় আবর্জনায়। ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া। বাড়ছে ক্যানসার, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক আর শ্বাসযন্ত্রের রোগ।

১৯৮৪ সাল থেকে ময়লা ফেলা শুরুর পর ২০০২ সালেই ধারণ ক্ষমতা হারায় এই ভাগাড়।

২০১৭ সালে, আবর্জনার এই পাহাড় ধসে দুইজন নিহত হওয়ার পর, বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল আদালত। কিন্তু ফল মেলেনি।

ভারতে প্রতিবছর তৈরি হচ্ছে ৬ কোটি বিশ লাখ টন বর্জ্য। ২০৩০ সাল নাগাদ যা হয়ে উঠবে ১৬ কোটি পাঁচ লাখ টন।