ব্যর্থতা কাটিয়ে আজই চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে ‘বাহুবলী’

প্রথমবারের ব্যর্থতা কাটিয়ে ফের মহাকাশে যান পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে স্থানীয় সময় ২টা ৪৩ মিনিটে ফের চন্দ্রায়ন – ২ উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এমনটাই জানিয়েছে।

এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই ওই যানটি প্রথমবারের মতো উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালানো হয়। তবে উৎক্ষেপণের ৫৬ মিনিট আগে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এবার ১ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে পরিচালীত এই চন্দ্রাভিযান সফল করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের ইতিহাস গড়তে পারবে ভারত।

ইসরো জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে রওনা হয়ে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে ক্রমশ দূরত্ব বাড়াবে চন্দ্রযান। পাঁচবার ঘোরার পর ১৪ আগষ্ট চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা দেবে। ২২ সেপ্টেম্বর চাঁদের কক্ষপথে ঢুকবে এটি। ৬ সেপ্টেম্বর চাঁদে অবতরণ করবে বিক্রম নামে চন্দ্রযানের ল্যান্ডার অংশটি। হিসেব মতো, রওনা দেয়ার ৫৪ দিন পরে চাঁদে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু প্রথম বারের গোলমালে এক সপ্তাহ সময় নষ্ট হয়েছে। এ বার তাই গতি বাড়িয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে বলে ইসরো সূত্রের দাবি।

৬৪০ টন ওজনের রকেটটির আনুষ্ঠানিক নাম জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেইকেল মার্ক– ৩ (জিএসএলভি এমকে- ৩), যা মূলত ‘বাহুবলী’ নামেই পরিচিত। এই রকেটটি ৪৪ মিটার দীর্ঘ বা একটি ১৫ তলা ভবনের সমান লম্বা। তবে এটি উৎক্ষেপণ নিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানীরা এখনো উদ্বিগ্ন। একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, বাহুবলীর ওজন ৬৪০ টন। এত বড় রকেটের নিচের অংশের থেকে মাটির ফাঁক খুব বেশি থাকবে না। তাই উৎক্ষেপণ শতভাগ নিখুঁত হতে হবে।

এর আগের ব্যর্থতা নিয়ে ইসরো’র আরেক কর্মকর্তা বলেন, সমস্যাটা গুরুতর ছিল, কিন্তু সেটি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা চন্দ্রায়ন– ২ উৎক্ষেপণের আগে আগেই সমস্যাটি ধরতে পেরেছিলাম। আর সেটা ধরতে পারায় ওই সতর্কতা অবলম্বন করি আমরা। প্রায় দেড়শ কোটি ভারতীয়ের প্রার্থনা এবং শুভেচ্ছা এই মিশনটির ব্যর্থতা এড়াতে সাহায্য করেছিল।

জানা যায়, ১৩ বছর আগে এই রকেট পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা সিই-টুয়েন্টি ইঞ্জিন ব্যবহার করতে বাধা দেয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। প্রায় তিন দশক নিয়ে ধরে এই প্রজেক্ট নিয়ে হয়েছে গবেষণা। ইসরোর এই সাফল্যই খুলে দেবে ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযান চন্দ্রায়ন-২ এর পথ। যেখানে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের।

ওয়েব সম্পাদনা : জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়