সফল দৃষ্টান্ত থাকার পরও পরিকল্পনা ছাড়াই রিকশা উচ্ছেদ

এক রঙা রিকশা। সব চালকের গায়ে নির্দিষ্ট পোশাক। সামনে নিবন্ধন নম্বর। পেছনে ভাড়ার তালিকা। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের অভ্যন্তরীন রিকশা সার্ভিসটা এমনই সুশৃঙ্খল, সাজানো-গোছানো। এই রিকশাগুলো কখনোই মূল সড়কে উঠতে পারে না। সেটার প্রয়োজনও পড়ে না। কারণ, গলির মুখেই পাঁচ মিনিট পরপর এসে বাস দাঁড়াচ্ছে। রিকশা থেকে নেমেই চক্রাকার বাসে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া যায়। যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহনের এমন অসাধারণ সমন্বয় করেছিলেন ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক।

কিন্তু এই মডেলের ধারে-কাছে না গিয়ে চলতি মাসের শুরুতে হুট করেই ঢাকার তিনটি প্রধান সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় নগর প্রশাসন। যদিও আন্দোলনের মুখে সেই নিষেধাজ্ঞা এখন অনেকটা শিথিল।

সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কলকাতার উদাহরণ টেনে তারা বলছেন, সেখানে দু’বছর সময় দিয়ে মূল সড়ক থেকে রিকশা সরানো হয়েছিলো। এই সময়ে পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করেছিলো সরকার। কিন্তু ঢাকায় এসবের কোন তোয়াক্কা করা হয়নি।

অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রিকশা চলবে অলিগলিতে। আর মূল সড়কে থাকবে পর্যাপ্ত বাস। থাকতে হবে পথচারীবান্ধব ফুটপাত। চাইলে রিকশা থেকে নেমে যেন পায়ে হাঁটা দূরত্বেই মিলবে বাস। যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহনের এমন সমন্বয়ে ঢাকার পরিবহন সমস্যার সমাধান দেখছেন নগরবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। যতদিন না এসব নিশ্চিত হচ্ছে ততদিন রিকশা তুলে দেয়ার বিপক্ষে তারা। নগরবিদদের পরামর্শ, গুলশান, বনানীর মতো ঢাকার অন্য এলাকাতেও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনায় রিকশা চালু হোক। যেগুলো চলবে অলিগলিতে। মূল রাস্তায় থাকুক পরিকল্পিত বাস সার্ভিস। কাজটা সময়সাপেক্ষ। তাই আপাতত মূল রাস্তার পাশে রিকশার আলাদা লেন করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

প্রতিবেদক: মনির মিল্লাত
ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান