ভারতে ১৩২ টি গ্রামে ৩ মাসে কোন মেয়ে জন্মায়নি কেন?

পুত্র সন্তান ভাগ্য নিয়ে আসে, আর কন্যা সন্তান সৌভাগ্য। ভারতের উত্তরাখাণ্ডের উত্তরকাশীর ১৩২টি গ্রামে গেল তিন মাসে কোনো সৌভাগ্যের দেখা মেলেনি, অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়া ২১৬ শিশুর মধ্যে কোনো কন্যা সন্তান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আর মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, কন্যাশিশুর ভ্রুণ হত্যার ব্যাপক প্রবণতাই এই অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

‘মাত্রুভূমি: আ নেশন উইদাউট ওমেন’- নারী ছাড়া একটি জাতির গল্প নিয়ে ২০০৩ সালে সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক মণীশ ঝা। এই ছবিই এবার বাস্তব হয়ে দেখা দিলো উত্তরাখণ্ডে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব বলছে, গেল তিনমাসে উত্তরকাশী জেলার ১৩২ গ্রামে ২১৬টি শিশু জন্ম নিয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে একটিও কন্যাশিশু নেই।

তবে কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রবণতা ব্যাপক আকার ধারণ করাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ সমাজকর্মীদের। তারা বলছেন, এমন ঘটনা কখনই কাকতালীয় হতে পারে না। সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

গত কয়েক বছরে কন্যাসন্তানের শিক্ষা ও সুরক্ষার জন্য একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ৫ বছর ধরে চলছে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও- এর মতো প্রকল্প। ভারত সরকারের সাথে কাজ করছে ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও। কিন্তু এই গ্রামগুলোর বর্তমান চিত্র বলছে… এগুলো খুব কমই কাজে এসেছে।

একশ বছর আগে এই এলাকায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি ছিলো। ১৯৩১ সাল থেকে এই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ২০১১ সালের হিসাবে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা কম। আর ২০১৬ তে এক হাজার পুরুষের বিপরীতে নারী ৮২৫ জন। অন্ধ্র প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার ও তামিলনাড়ুতেও একই অবস্থা। সেখানে বলা হয়েছে শহরের চেয়ে গ্রামেই নারীর সংখ্যা বেশি।

প্রতিবেদক: বর্ণা তারানা
ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান