তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই, ফের বন্যার আশঙ্কা

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটর। যা (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমা বরাবরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এরআগে একইদিন সকাল ৯টা, দুপুর ১২টায় ও ৩টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিন ঘণ্টা পরে তা বেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে আবারো শঙ্কায় পড়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষ।

তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

তিস্তার চরাঞ্চল পাসাইটারী গ্রামের মানিক মিয়া, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো আবারো প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ২/৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব অঞ্চল ১০ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী বন্যায় পানিবন্দী থেকে সবেমাত্র মুক্তি পেয়েছেন। বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই আবারো বন্যার আশঙ্কায় তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

একই এলাকার মজমুল হক ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, গত বন্যার পানি মাত্র দুইদিন হলো নেমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত শুরু করেছেন অনেকেই। এরইমধ্যে মঙ্গলবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিকেলে ফের পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন তারা। এখন ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আরো বেড়ে গেলে রাতেই রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে ফের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত তারা।

চর হলদিবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, গত কয়েকদিন আগের বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে ফের পানিবন্দী চরাঞ্চল। পানি যত বাড়ছে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা ততই বাড়ছে।

তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢেউয়ে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে এরইমধ্যে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে।

লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বিপদসীমা বরাবরে প্রবাহিত হচ্ছে। সার্বক্ষণিক তিস্তা পাড়ের মানুষের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বিগত বন্যায় শুরু হওয়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এসব এলাকায় চলছে। আবারো বন্যা হলে মোকাবিলা করার পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।

ওয়েব সম্পাদনা : জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়