‘ছেলেধরা’ অভিযোগে সালমাকে পিটিয়ে হত্যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

সাভারে ‘ছেলেধরা’ গুজবে নিহত সালমা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা। তারা জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ায় তিনি থাকতেন বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে। তার তিন মেয়ে থাকতো বাবার কাছে। মেয়েদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে না দেয়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

গত ২০শে জুলাই তিন কন্যাকে দেখতে এসেছিলেন সালমা বেগম। কিন্তু শেষ মেষ গুজবের বলি হয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে। পুলিশ জানায়, মানসিকভাবে অসুস্থ নিহত সালমা মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের মুসলিমাবাদ গ্রামে বাবার বাসায় থাকতেন। মেয়েদের দেখতে মাঝে মাঝে ইমান্দিপুর মিজানুরের বাড়ি আসতেন।

এদিকে সালমার স্বজনদের অভিযোগ, মিজানুর ও তার স্বজনরা সালমাকে ‘ছেলেধরা’ গুজবে গণপিটুনি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করিয়েছে। তারা আরো জানায়, আগেও মেয়েদের দেখতে গেলে সালমাকে মারধর করতো মিজানুরের দ্বিতীয় স্ত্রী ও স্বজনরা। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগও করা হয়।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান মানুষজনের হৈচৈ শুনে এসে দেখেন পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে সালমাকে। এ ঘটনায় প্রায় ৮০০ জনকে আসামি করে পুলিশ সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ আটকও করেছে সাব্বির নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে। এব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মিজানের পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মিজানুরের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সালমার। সালমাকে ডিভোর্স দিয়ে আবার বিয়ে করেন মিজানুর।

প্রতিবেদক: মিঠুন সরকার, মনিরুল ইসলাম মিহির এবং শিল্পী মহলানবীশ
ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান