অপ্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে ছিটানো হয় মশার ওষুধ

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নাম্বার ওয়ার্ড। এডিশ মশা নিধনে ফগিং মেশিনে ওষুধ ছিটান সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। কিন্তু তিনি জানেন না এডিস মশা মারার জন্য আসলে কোথায় ওষুধ ছিটাতে হবে। ওষুধ ছিটানোর এই কাজ তিনি শিখেছেন তার গুরুর কাছে। পুরান ঢাকার প্রধান সড়ক আর ড্রেনে মশার ওষুধ ছিটান দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কর্মী। জানালেন মশা মারার জন্য এখন কাজের চাপ বেড়েছে। দুই শিফটেই তিনি কাজ করছেন। কিন্তু তার কাছেও সব মশাই এক।

৪০ বছরের পুরনো নিয়মে অপ্রশিক্ষিত কর্মী দিয়ে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ছিটানো হয় মশা মারার ওষুধ। গবেষকরা বলছেন, এডিস মশা মারার ওষুধ, সঠিক নিয়মে স্প্রে না করায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাফল্য আসছে না। এ পদ্ধতিতে এডিস নয়, মরছে কিউলেক্স মশা। এদিকে জনবল অভাবে দুই সিটিতে ব্যাহত হচ্ছে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ।

উত্তর এবং দক্ষিণ দুই সিটি কর্পোরেশন মিলে কোটি মানুষের এই শহরে মশার মারার জন্য আছে প্রায় ৭শ জন স্প্রে ম্যান। দক্ষিণের চেয়ে উত্তরের আয়তন বেশী হলেও তাদের জনবল সবচেয়ে কম। দুই সিটির অধিকাংশ ওয়ার্ডে সকাল বিকাল মশার ওষুধ ছিটানো হলেও; এডিস মশা সম্পর্কে এই কর্মীদের কোন ধারণা না থাকায় সাফল্য আসছে না। আবার, ওষুধ ছিটানোর যন্ত্রপাতিও অনেক পুরনো।

দক্ষিনের মেয়ের বলছেন, এতোদিন বিষয়টি নিয়ে কোন ভাবনা থাকলেও এবারের পরিস্থিতি তাদের ভাবতে বাধ্য করেছে। চলতি বছরই স্প্রে ম্যানদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনবে সিটি কর্পোরেশন।

এডিস মশা নিধনে স্প্রে ম্যানদের কাজের তদারকি এবং মূল্যায়ন প্রয়োজন বলছেন মশা গবেষকরা।

প্রতিবেদক: ডলার মেহেদী
ওয়েব সম্পাদনা: ধ্রুব হাসান