আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

সোমবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের আবাসভূমি আছে বাংলাদেশসহ এমন ১৩টি দেশে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে একযোগে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের স্লোগান- ‘বাঘ বাড়াতে শপথ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি’।

বাংলাদেশে বাঘের সবচেয়ে বড় আবাসভূমি সুন্দরবন। তবে বন উজাড় করে বসতি স্থাপন, চোরাচালানকারীদের অপতৎপরতা, পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি কারণে বনের পরিবেশ এখন বাঘের প্রতিকূলে। এ অবস্থায় সুন্দরবনে হুমকিতে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু আশার কথা গত তিন বছরে সুন্দরবনে বেড়েছে আটটি বাঘ। এখন বাঘের সংখ্যা ১১৪টি।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড বলছে, একশ বছর আগে সারাবিশ্বে বাঘ বিচরণ করতো এক লাখেরও বেশি। আর এখন পৃথিবীতে শতকরা ৯৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০০টি বাঘ অবশিষ্ট আছে।

সুন্দরবনে এক সময় প্রায় সাড়ে ৫শ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিচরণ করত। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশ দূষণ আর চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে কমছে বাঘের সংখ্যা; এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বসবাসের ঝুঁকি কমাতে পারলে আরো বাড়বে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা।

সুন্দরবন রক্ষায় তৎপর বর্তমান সরকার। বাঘ সংরক্ষণেও উদ্যোগী। তাই সুন্দরবনের চারপাশের গ্রামগুলোয় বন বিভাগ ও স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে ‘ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি)’ গঠন করা হয়েছে। সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসা বাঘকে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং পঙ্গু বাঘকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উভয় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ, বাঘ ও শিকারি প্রাণী পাচার বন্ধ, দক্ষতা বৃদ্ধি, মনিটরিং ইত্যাদির জন্য একটি প্রটোকল ও একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ওয়েব সম্পাদনা : জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়