ব্রেকিং নিউজ:
গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা হেফাজতে জামায়াত নেতা আজহার
নিউজ ডেস্ক    আগষ্ট ২২, ২০১২, বুধবার,     ১০:০৮:৪৫

 

জামায়াতে ইসলামি’র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার পর পর আজহারকে তার রাজধানীর মগবাজারের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতারের পর মিন্টো রোডের মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখান থেকেই তাকে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে-১ হাজির করা হবে।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ট্রাইবুন্যাল-১ এ এটিএম আজহারুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের আবেদন করে প্রসিকিউশন। এ আবেদনের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইবুন্যালে হাজির করার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
১৯৭১ সালে বদরগঞ্জে প্রায় ১২০০ মানুষকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন এটি এম আজহার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে আজ এ অভিযোগ তুলে ধরা বলা হয়েছে, সেসময় ইসলামি ছাত্র সংঘের সভাপতি থাকা অবস্থায় রংপুর কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষক হত্যায় জড়িত ছিলেন এটিএম আজহার।
১৯৭১ সালে রংপুরে ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজাহারুল ইসলাম । রাজাকার-আলবদর বাহিনীরও অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয় ,৭১ সালে রংপুরের কারমাইকেল কলেজের ৬ শিক্ষক এবং এক শিক্ষক-পত্নীকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন । এছাড়া বদরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়ুয়াবিল ও পদ্মপুকুর এলাকায় ১২০০ মানুষকে হত্যার সঙ্গে এটিএম আজহার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এছাড়া বুদ্ধিজীবী হত্যায়ও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুনানিতে প্রসিকিউটরর জেয়াদ আল মালুম বলেন, এটিএম আজহারকে গ্রেপ্তার করা না হলে তিনি তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি করবেন।
দুপুর ১২টার দিকে ট্রাইবুন্যালের এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আজহারকে গ্রেফতারের তোড়জোড় শুরু হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যা ব, ডিবি পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার ৯১/বি ওয়্যার‌লেসের ৮তলা ভবনের ৭ম তলার বাসার সামনে অবস্থান নেন। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বাসায় প্রবেশ করে র্যাবব পুলিশের একটি টিম। দীর্ঘ প্রায় ২ ঘণ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেখানে অবস্থানের পর বেলা ২টার দিকে রমনা জোনের ডিসি নূরুল ইসলাম আজহারকে গ্রেফতারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আদালতের আদেশের লিখিত কপি আমরা কিছুক্ষণ আগেই পেয়েছি। আদেশের কপি পাওয়ার পরপরই আজহারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু আজ (বুধবার) ট্রাইব্যুনালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেহেতু তাকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে তোলা হবে। সে পর্যন্ত তিনি ডিবি হেফাজতে থাকবেন।”
সাংবাদিকদের কাছে এ বক্তব্য দেওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আজহারকে প্রিজন ভ্যানে করে র্যা ব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে আজহারুল ইসলামের আইনজীবীদের অন্যতম ফরিদ উদ্দিন খান এই আটকাদেশকে প্রহসনমূলক বলে দাবি করেছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে গ্রেফতারকৃত জামায়াতের অন্যান্য নেতারা হলেন সাবেক আমীর গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ,নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা এবং কর্মপরিষদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলী।
অন্যদিকে জামায়াতের সাবেক রোকন আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও তিনি পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনও (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) ও দাখিল করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে।

এম. এ./ এম.এস./২১.১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ১৩১৪ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :