ব্রেকিং নিউজ:
পুরান ঢাকার নারিন্দা যেন ‘মশার খামার’
নিউজ ডেস্ক    আগষ্ট ৩১, ২০১২, শুক্রবার,     ১২:৪১:১৫

 

মশার অত্যাচার থেকে বাঁচতে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন পুরান ঢাকার নারিন্দার বাসিন্দারা। মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এই এলাকার মানুষের জীবন। বার বার সিটি কর্পোরেশনের কাছে অভিযোগ করেও এ নিয়ে কোন প্রতিকার মেলেনি।
দেখে ঠিক বোঝার উপায় নেই এই মশাগুলো কতটা ভয়ংকর। পুরান ঢাকার নারিন্দার মানুষের জীবনকে একরকম বিভীষিকাময় করে তুলেছে এই মশা। এমনিতেই নানা নাগরিক সমস্যায় ডুবে আছে যাত্রাবাড়ীর পাশের এই এলাকাটি। এর উপর সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে মশার অত্যাচার। এলাকাবাসী জানিয়েছে, মশার কামড়ে বাচ্চাদের শরীরে ঘা হয়ে যাচ্ছে। ১০ মিনিট এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা যায়না,ঘুমাই কীভাবে? শহীদুল ইসলাম নামের একজন দিনমজুর জানিয়েছে, ঘুমানোর জন্য রাতে কমপক্ষে পাঁচটা কয়েল জ্বালাতে হয়। প্রতিদিন রোজগার করি ১০০ টাকা। কয়েল কিনতেই যদি ২৫ টাকা লাগে,তাহলে সংসার চালাই কী দিয়ে?
এই এলাকায় মশার বংশবিস্তারের কারণ হিসেবে এলাকাবাসী দায়ী করছেন ডোবা জায়গাকে। ডোবা যায়গায় কচুরীপানা থাকায় এখানে মশার বংশবিস্তার সহজেই হয়। প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে জমে থাকা সুয়ারেজের ময়লা পানির দুর্গন্ধ আর এতে জন্ম নেয়া মশার কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন নারিন্দার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টি হলেই এখানে থাকা কঠিন হয়ে যায়। কারণ বৃষ্টির সময় নর্দমার পানি থেকে এসিডের মত গন্ধ বের হয়। এতে আমাদের শ্বাসকষ্ট হয়। এটা যেন মশার খামারে পরিনত হয়েছে। তিনি আরও জানান,এখানে একটি রাস্তা বানানোর কথা বলা হয়েছিল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। কিন্তু তা না করে এটা এখন আমাদের ক্যন্সারে পরিনত হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, সিটি কর্পোরেশনের অধীনে থাকা এই জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য স্হানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের কাছে অনেকবার দাবি জানালেও কেউ কোন উদ্যোগই নিচ্ছে না। শুধু তারাই না, স্বাস্হ্য অধিদপ্তেররও কোন খেয়াল নেই এ সমস্যা সমাধানের।
মশার কামড় আর ময়লা পানির দুর্গন্ধের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। তাই দু:সহ এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন এলাকাবাসী।
এফ.আর/এস.এম.বি/১১.০০

বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭৮৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :