ব্রেকিং নিউজ:
ডা. নারায়ণের অভিযুক্ত ঘাতক মিন্টু গ্রেপ্তার
নিউজ ডেস্ক    সেপ্টেম্বর ০১, ২০১২, শনিবার,     ০৮:২৯:১৫

 

মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. নারায়ণ চন্দ্র নিতাই হত্যার অন্যতম আসামী মাসুম মিন্টুকে শুক্রবার রাতে সিলেটে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেপ্তার হবার পর মিন্টু (৩০) ডা. নারায়ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং হত্যকান্ডের মূল পরিকল্পক হিসেবে তার গাড়িচালক কামরুল হাসান অরুণের নাম গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে।।
শুক্রবার রাতে সিলেটে বাদাম বাগিচার সেতু বন্ধন এলাকা এক বাসা থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে তাকে সাংবাদিকদের সামনে আনা হলে সে জানায়,ডা. নারায়ণ চন্দ্রের বাসায় ২০ লাখ টাকা আর ৭৫ ভরি স্বর্ণ আছে বলে তাদেরকে তথ্য দেয় তার গাড়িচালক অরুণ।
সে অনুযায়ী তারা ঐ বাসায় ডাকাতি করতে যায়। দোতলার গ্রিল ভেঙে বাসায় ঢোকার পর ডা. নারায়ণ ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং চিৎকার করতে শুরু করলে গৃহকর্তার বুকে ছুরি চালায় সে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, “ডা. নারায়ণ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে গ্রেপ্তার করা চারজনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের একজন মূল হত্যাকারী হিসেবে মিন্টুর নাম প্রকাশ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মিন্টুকে শুক্রবার সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে। এখন হত্যাকাণ্ডের পরদিন থেকে লাপাত্তা চালককে পেলেই খুনের আসল কারণ জানা যাবে।”
এ নিয়ে এ পর্যন্ত ডা. নিতাই হত্যার ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করলো গোয়েন্দা পুলিশ। মিন্টুর আগে ফয়সল (৩২), পেদা মাসুদ (২৮), সাইদুল (৩৮) ও পিচ্চি কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের একজন ফয়সল গত ২৫ অগাস্ট মূল হত্যাকারী হিসেবে মিন্টুর নাম জানায়।
নিজেকে পেশাদার চোর স্বীকার করে মিন্টু বলেন, “ সাইদ ও বকুল আমাকে ডা. নারায়ণের বাড়িতে চুরি করতে নিয়ে যায়। দোতলার গ্রিল ভেঙে বাসায় ঢোকার পর ডা. নারায়ণ ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং চিৎকার শুরু করলে প্রথমে আমি তার বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করি। পরে বকুলও ডা. নারায়ণের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি মারে।”
গাড়িচালক অরুণের বিষয়ে ডা. নারায়ণের স্ত্রী লাকী দত্ত জানান, গত বছরের ১১ নভেম্বর চাকরি দেয়া অরুণ ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি নেয়। তবে হত্যাকাণ্ডের দিন সে ঢাকায় ছিল এবং লাশের সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে চট্টগ্রামও গিয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি।
গত ২৩ অগাস্ট ভোররাতে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আবাসিক ভবনে খুন হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পর্ষদের সদস্য ডা. নারায়ণ। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় খুন হন এই চিকিৎসক নেতা। তবে নারায়ণ পরিবারের দাবি, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিয়োগও এর পেছনে কাজ করতে পারে।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. নারায়ণ খুনীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদেশে চিকিৎসকরা দুদিন কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করে।

আর. এম./এম. এস./১৫.৫৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৭২১ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :