ব্রেকিং নিউজ:
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক    সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ০৬:৩১:২০

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করবে।তাই রূপপুরের পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার সাভারের গণকবাড়ীতে পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ৬টি আধুনিক বৈজ্ঞানিক স্থাপনার উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।
পরমাণু প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী পণ্য, পরমাণু চিকিৎসার উন্নয়ন এবং পারমানবিক নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ এগিয়ে নিতে প্রায় ২শ’কোটি টাকা ব্যয়ে উচ্চ সংবেদনশীল পরমাণু নির্ভর এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“আমরা জনগণের জীবনযাত্রার মন্নোয়নে কেবল বিদ্যুৎ, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন এবং আধুনিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বিজ্ঞান ও গবেষণার উপর জোর দিচ্ছে এবং গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ দিয়েছে। গবেষণার ফলেই দেশ খাদ্যে স্বয়সম্পূর্ণ হতে চলেছে বলে জানান তিনি।
‘৩ এমভি ট্যানডম এক্রেলেটরস ফ্যাসিলিটিজ’ সহ আরো ৫টি উচ্চ সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক স্থাপনার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাশিয়ান সহযোগিতায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ভৌত কাজও শিগগিরই শুরু হবে। এটি শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
দেশের পারমাণবিক গবেষণায় নতুন দিগন্তের এ সূচনা লগ্নে তিনি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে, মানুষের জন্য বেশি সুবিধা নিয়ে আসতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় মৌলিক গবেষণার উপর গুরুত্ব দেবার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের বিজ্ঞানীরা স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন এবং স্থানীয় সম্পদ ও সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে তা প্রয়োগ করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের গবেষণা সক্ষমতা দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আর দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
শেখ হাসিনা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো গবেষকদেরও চাকুরীর বয়সসীমা বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার।১৯৯৬ সালে শুল্ক উঠিয়ে দিয়ে কম দামে কম্পিউটার ব্যবহার নিশ্চিত করেছে তাঁর সরকার। আর এবার ক্ষমতায় এসে তথ্য প্রযুক্তি গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞানী ও গবেষকরাও আইটি সুবিধা সম্প্রসারণের এ সুফল ভোগ করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ পরমানু শক্তি গবেষণা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম ফিরোজ।

এ. আই./ এম. এস./২১.৪০
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৬৭৬ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :