ব্রেকিং নিউজ:
২০১৪ সালের মধ্যেই দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করবো: শেখ হাসিনা
মাহবুব সাঈফ    সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১২, শুক্রবার,     ১০:২২:২৫

 

সাক্ষরতা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও আগামীকাল শনিবার ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত “আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১২” উদযাপিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এবং এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে”।
এ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “সাক্ষরতার জন্য শান্তির চর্চা” (Cultivating Peace) পৃথিবী জুড়ে মানুষের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষার সুযোগের মধ্যে যোগসূত্রকে উৎসাহিত করার জন্য এবং সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্র তৈরীতে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরার জন্য নিবেদিত হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূর করে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করেছি-পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি। দারিদ্র্যজনিত ঝরে পড়া রোধ করতে উপবৃত্তি কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি, যা প্রাথমিক স্তরে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সকলের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় দেশের শতভাগ মানুষকে সাক্ষর করে তোলার আহবান জানান এবং আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০১২ উপলক্ষে নেয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার বয়স্ক (১৫ বছরের বেশি) ৫৯.০৭ শতাংশ এবং ৭ বছর ও এর বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৫৭. ৬৮ শতাংশ। ১৯৯১ ও ২০০০ সালে দেশে সাক্ষরতার এই হার ছিল যথাক্রমে ৩৫.৩ শতাংশ ও ৫২.৮ শতাংশ।
যদিও দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি উপলক্ষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এমডিজি) এবং ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পূরণের অনিশ্চিয়তার শংকার কথা বলেছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের ঘোষণা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে মোতাহার হোসেন বলেন, “এই সরকারের সময় নিরক্ষরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা একটি ট্র্যাকে পৌঁছাতে চাই”।
বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার হলো ৫৯. ৮২ ভাগ এবং দেশে তিন কোটি ৭৩ লাখ নিরক্ষর লোক আছে এমন তথ্য জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,এই সরকারের আমলে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে সারাদেশে ৮৪টি শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা,আনন্দ স্কুল প্রতিষ্ঠা,জীবনমুখী শিক্ষা চালু এবং পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোতে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে ৬০-৭০ লাখ নিরক্ষর লোককে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলগামী শিশুর ভর্তির হার ২২শতাংশ বেড়ে ৯৯.৪৭ শতাংশে দাড়িয়েছে। এদের মধ্যে ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে এবং মিড-ডে মিল চালু থাকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৯৬ শতাংশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. আলমগীরের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল সকাল সাড়ে আটটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি র্যা লি বের করবে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো প্রণীত 'মৌলিক সাক্ষরতা (৬৪ জেলা)' প্রকল্প প্রস্তাব বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫-৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদানসহ জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হবে। এছাড়া নিরক্ষরতা দূর করতে আরও কিছু বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

এম.এস./ ২১.৫৫
বিভাগ:    দেখা হয়েছে ৬৫৯২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :