ব্রেকিং নিউজ:
“তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের রায় পক্ষপাতদুষ্ট”: বেগম জিয়া
নিউজ ডেস্ক    সেপ্টেম্বর ২০, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ১২:০৩:৫৬

 

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার বলে মনে করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া আলোচিত এ রায় নিয়ে বিএনপি ও ১৮ দলীয় বিরোধী জোটের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে অভিযোগ করেন, “সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতেই প্রধান বিচারপতি এই রায়কে দলীয়করণ করেছেন এবং সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এ রায়ের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায় সম্পর্কে বিএনপি ও ১৮ দলীয় বিরোধী জোটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই বিএনপি চেয়ারপারসন তার লিখিত বক্তৃতায় বলেন, একজন অবসর বিচারপতি তার বিচারকাজে কখনই পক্ষপাতহীন থাকতে পারেননা। তাই এই রায় কোনওভাবেই জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্য হবেনা।
বেগম জিয়া বলেন, “একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কখনো রায়ে সই করতে পারেন না। এছাড়া ১৩ মাস আগের দেওয়া রায় আর এখনকার ঘোষিত রায়ের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অমিল । তাই এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও বাতিলযোগ্য।’’
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এই রায়কে বিচার বিভাগকে দলীয়করণের সেরা দৃষ্টান্ত এমন আখ্যা দিয়েতিনি মন্তব্য করেন, “রায়টি বাতিল করা হয়েছে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না-এই শর্তে। অথচ এ রায়েই রয়েছে মেয়াদের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার কথা।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূরণের নিমিত্তে দেওয়া এই রায় দেশের রাজনৈতিক সংকট আরো বাড়াবে এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে বেগম জিয়া আরো অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে এই রায় দেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলে দিয়েছেন আদালত সেভাবেই রায় দিয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় প্রধানমন্ত্রীর কথার হুবহু প্রতিধ্বনি এবং আগের ঘোষিত রায়ের সাথে এ রায়ের নজিরবীহিন গরমিল রয়েছে।”
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বেগম জিয়া বলেন, ‘ জনগণের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন পন্থায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন কালীন সরকার নির্ধারন করবেন রাষ্ট্রপতি; প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।”
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, হান্নান শাহ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপি ও ১৮ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এফ.আর./এম. এস./১৮.৩৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৩৮৯ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :