ব্রেকিং নিউজ:
প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আশ্বাসে শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত
নিউজ ডেস্ক    অক্টোবর ০৪, ২০১২, বৃহস্পতিবার,     ০১:১৬:৪১

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পেয়ে শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলী ‘ দু’একদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বসবেন’ এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে শুক্রবারের কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুণ্ডু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষক নেতাদের জানানো হয়েছে,প্রধানমন্ত্রী আগামী রোববার কিংবা সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস পেয়েই তাঁরা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
দুপুর তিনটার দিকে তাপস কুণ্ডুকে ফোনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বৈঠকে বসার কথা জানান তাঁর সহকারী একান্ত সচিব-২ (এপিএস-২) সাইফুজ্জামান শেখর।
শেখর জানান, “শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য যে আবেদন করেছিলেন, তাতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যত দ্রুত সম্ভব (দু’একদিনের মধ্যেই) তাদের সঙ্গে তিনি বসবেন।” তবে তিনি বৈঠকের দিনক্ষণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির (মাসিক বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁদের ওপর ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। এতে ২০-২৫ জন শিক্ষক আহত হন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ,পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সচিবালয় ঘেরাওয়ের জন্য প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এগোতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে তাঁরা পথ পরিবর্তন করে মিছিল নিয়ে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনের কদম ফোয়ারার কাছে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। কাঁটাতারের বাধা অতিক্রম করে শিক্ষকরা সামনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসময়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে। এতে নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার কুন্ডুসহ ২০-২৫ জন শিক্ষক আহত হন।
সে সময় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শাহবাগ সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পাঁচ দফা দাবিতে ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা গত সোমবার থেকে বিক্ষোভ করছেন। ঐক্যজোটের সভাপতি মো. এশারত আলীর নেতৃত্বে গতকাল বুধবার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা যে পাঁচ দফা দাবি উল্লেখ করেন সেগুলো হচ্ছে: চলতি অর্থবছরে স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, স্বীকৃতির সময়কাল থেকে চাকরির বয়স গণনা করা, এমপিওর ক্ষেত্রে সাংসদের ডিও লেটার দেওয়ার প্রয়োজন বিলুপ্ত করা, এমপিও প্রদানে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা এবং স্বীকৃতি পাওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না দেওয়া।
টানা চারদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বৃহস্পতিবার সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়া বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক সরকারী তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার অংশ ও অনুদানভুক্ত বেসরকারি স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসের প্রথম কিস্তির অনুদানের টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে।
সরকারী তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়,বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকার ও এবতেদায়ি মাদ্রাসার অনুদানের টাকার চেক অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ তুলতে পারবেন। আর ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যাংক থেকে শিক্ষকরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদানের টাকা তুলতে পারবেন।

এম. এস./১১.১৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ১৮৮৫ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :