ব্রেকিং নিউজ:
বৌদ্ধবিহারে হামলায় সরকার দায়ী: বিএনপি
নিউজ ডেস্ক    অক্টোবর ১২, ২০১২, শুক্রবার,     ১১:২৯:৩৬

 

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করেছে বিএনপির তদন্ত দল।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৬৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
নয় সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের নিষ্ক্রিয়তাই এ ঘটনাপ্রবাহ সংঘটিত হতে সব ধরনের সহায়তা করেছে। সরকার নিজেদের মদদে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
মওদুদ আরও বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে শ খানেক লোক মিছিল করে। এরপর ভোররাত পাঁচটা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর লুটপাট হয়। পরদিন পটিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা সেখানে সরকারের উপস্থিতি ছিল না।
সরকারের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, রামুর কেন্দ্রীয় সীমা বিহার থেকে থানার দূরত্ব ছিল মাত্র আধা কিলোমিটার। জেলা পুলিশ সদরের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার আর সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব ছিল ৪ কিলোমিটার। তারা কেউই পরিস্থিতি শান্ত বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভূমিকা নেয়নি। নিলে এই বর্বর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে উত্তম কুমার বড়ুয়ার জন্য ঘটনার সূত্রপাত, তাঁর বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল হয়, আশপাশের বৌদ্ধবিহারে হামলা হয়, কিন্তু উত্তমের বাড়িতে একটি ইটও পড়েনি। তদন্ত দলের মনে এটি গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।’ তদন্ত দলটি ৫ ও ৬ অক্টোবর রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে তাঁরা শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেন, বক্তব্যের ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত লোকজনের সাক্ষ্য এবং হামলার ঘটনায় গান পাউডারের ব্যবহার ও চৌকোণা ব্লক দেখে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে। দলটি মনে করছে, এর উদ্দেশ্য ছিল দুটো—সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হওয়ার ভয় দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা।
এ ছাড়াও তদন্ত দলটি অভিযোগ করে, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার ওরফে কাজল ওই দিন বিএনপির সাংসদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর ভাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইমুন সরওয়ার ওরফে কমল এ ঘটনায় মদদ দিয়েছেন।
তদন্ত দলের পেশ করা সুপারিশ
তদন্ত দলটি ঘটনা তদন্তে অতি দ্রুত সাবেক প্রধান জ্যেষ্ঠ বিচারপতির নেতৃত্ব একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের নিরাপত্তার দাবি জানায়।
ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরগুলো পুনঃস্থাপন করতে যত কোটি টাকা লাগে, তা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া যেসব বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব বাড়ির মালিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও সুপারিশ করে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তদন্ত দলের সদস্য আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নেতা গৌতম চক্রবর্তী প্রমুখ।

এম. এস./১৯.৪৫
বিভাগ: প্রধান সংবাদ    দেখা হয়েছে ৩৭২ বার.

 

শেয়ার করুন :

 
মন্তব্য :